বাঙালির গর্ব ও চেতনাজুড়ে আছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। একুশের শানিত চেতনার এই মাস বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ভাষার মাসের বিশেষ আয়োজনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রকাশনা সংস্থা আবিষ্কার-এর স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হাসান। ভাষার বিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ভাষার বিবর্তন অতি পুরাতন। বাংলা ভাষার উৎপত্তিগতভাবে যে রূপটি ছিল তা এখন আর সেভাবে নেই। আজ যেভাবে সাধারণের মুখের কথা সাহিত্যে ব্যবহৃত হচ্ছে অতীতে তা ছিল না। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্ররাও এখন বিবর্তনের পেছনের ভাষাবিদ সাহিত্যিক। আমি এই বিবর্তনকে এক ধরনের সংস্কার মনে করি। সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার বিষয় উল্লেখ করে এই প্রকাশক বলেন, আধুনিক যুগে এসে গদ্য, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, গীতিকবিতা ও প্রবন্ধ বিকশিত হয়েছে। বাংলা ভাষার প্রকৃত দাবিদার বাংলাদেশি মানুষের কাছে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ও সিনেমা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে, গদ্য, কবিতা, উপন্যাস, সায়েন্সফিকশন, মোটিভেশনাল বইয়ের পাশাপাশি তরুণদের কাছে ইতিহাস, বিজ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি ও ধর্মীয় বইয়ের চাহিদা বেড়েছে। ভাষার আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হাসান বলেন, আন্তর্জাতিকীকরণ তখনই সফল হয় যখন পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ভাষায় রচিত সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তেমনি একটি গর্ব করার বিষয়। অপরাপর শ্রেষ্ঠ ভাষার সংশ্রব ব্যতীত একটি ভাষা কখনোই সমৃদ্ধ হতে পাওে না। বাংলা ভাষায় যেমন বিশ্বের অন্যান্য ভাষার শব্দ জায়গা করে নিয়েছে তদ্রƒপ বাংলা সাহিত্য জায়গা দখল করেছে বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যে। একইভাবে বাংলা সাহিত্য অনূদিত হচ্ছে বিভিন্ন ভাষায়। ফলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য আন্তর্জাতিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলাটা অযৌক্তিক হবে না। ভাষার ভবিষ্যতের বিষয়ে এই প্রকাশক বলেন, মানুষ যতদিন বেঁচে থাকবে ভাষা ততদিন বাঁচবে। ২৮ কোটি মানুষের ভাষা বাংলা। সুতরাং বাংলা ভাষা হারিয়ে যাবে না। বাংলা সাহিত্যকে ছড়িয়ে দিতে হবে পৃথিবীর অপরাপর সমৃদ্ধ ভাষায়। বিশ্ব দরবারে প্রসিদ্ধ লেখকদের কাছাকাছি বাংলা ভাষার লেখকদের নিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়াও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভূখণ্ডে ভাষার প্রসারে চিন্তার পথ উন্মুক্ত করতে হবে।
সাহিত্যের বিভিন্ন ধারায় শুদ্ধ বাংলা চর্চা কতটা সফল এমন প্রশ্নের উত্তরে দেলোয়ার হাসান বলেন, শুদ্ধ বাংলা চর্চার কাজটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এর জন্য প্রমিত উচ্চারণ প্রণীত বাংলা রীতি অনুসরণ নিয়মিত সাহিত্য পাঠ এবং মৌলিক জ্ঞান অর্জন অপরিহার্য। একুশের শানিত চেতনা নিয়ে প্রকাশনা অপ্রতুল কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৪৭ এর দেশ ভাগ উপমহাদেশে যেভাবে মানুষের মনে দাগ কেটে দিয়েছে সেই তুলনায় একুশের ভাষার আন্দোলন ততটা গভীর নয়। এখানে সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণ তেমন না। তাই হয়তো একুশের প্রকাশনা কম। আরও একটি কারণ, এখানে ভাষা আন্দোলন বিরোধী স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি চায় না একুশ ও মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করুক। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও যতটুকু প্রয়োজন ছিল ততটুকু নাই। এজন্যই একুশের প্রকাশনা কম।