৩০টি সংসদীয় আসনে পুনরায় ভোট গণনা এবং বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। জামায়াত বলছে, এসব আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর সঙ্গে বিজয়ী ঘোষণা করা প্রার্থীর ব্যবধান খুবই অল্প। যেখানে ভোটের সর্বোচ্চ ব্যবধান হয়েছে ১০ হাজারের মতো। আসনগুলোতে তারা জয়ের বার্তা পাচ্ছিল, যখন ভোট গণনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ভোট পুনরায় গণনা হলে তারা জয় পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে।
আসনগুলো হচ্ছে- পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-১, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১ (রিকশা), ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩ (রিকশা), ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪। ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হচ্ছে জামায়াতের এজেন্ট সমর্থক ও নারীরা। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তার মতে, ঢাকার কিছু আসনে ফলাফল দিতে অনেক দেরি হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় খুব দ্রুত ফলাফল দেওয়া হয়েছে। সেগুলোতে তিনি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখছেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, যারা সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে, তারা নেতা-কর্মীদের সহিংসতা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। জামায়াতে ইসলামী আশা করেছিল ফ্যাসিবাদী আচরণমুক্ত নতুন বাংলাদেশে হবে। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক, নির্বাচনি এজেন্ট এবং এমনকি মহিলাদের ওপর হামলার শতাধিক ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ফলে বাগেরহাট ও মুন্সিগঞ্জে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নির্দিষ্টভাবে ফেনী জেলার শীলনিয়া বাজারে হামলায় আহত হয়েছে জামায়াত কর্মী দুলাল। এ ঘটনায় তার মা স্ট্রোক করে মারা যান। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সহিংসতায় এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।