রীতি ভেঙে এবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে হবে মন্ত্রিপরিষদের ব্যতিক্রমী শপথ অনুষ্ঠান। চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গভবনের দরবার হলে। তবে এবার সেই ধারাবাহিকতা থাকছে না। আগামীকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হবে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে একই দিন সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে সংসদের শপথ কক্ষে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া দল বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী সংসদ ভবনে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত হওয়া সব সরকারের শপথ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতা নেই। এখানে আলাদাভাবে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো বা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হয় না। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিসভার শপথে দেশিবিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ, তাদের আপ্যায়ন, পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনাসহ নানান ধাপের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। শেষ মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিভিন্ন পর্ব নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম¥দ ফিরোজ মিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মন্ত্রিসভার শপথ হয়েছিল। এরপর আর বঙ্গভবনের বাহিরে শপথ হয়নি। এবার একটু ব্যতিক্রম, এটা হতেই পারে যেকোনো স্থানেই।
এদিকে, গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ি আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টাদের বৈঠকে শপথ অনুষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে জানানো হয়েছে। খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সেখানে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। বিকাল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে এবং এখন পর্যন্ত যতটুকু জানি রাষ্ট্রপতি শপথবাক্য পাঠ করাবেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়টি বিএনপির ইচ্ছায় হচ্ছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলা হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে তিনি জানেন না। এদিকে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সংসদের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যের শপথ হবে সকালে। পরে বিকালে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে। শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নতুন এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত। ২০২৪ সালে গণ অভ্যুত্থানের সময় সংসদের ক্ষয়ক্ষতিগুলো মেরামত করা হয়েছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধী দলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
উপদেষ্টারাও যোগ দেবেন শপথ অনুষ্ঠানে : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টারা যোগ দেবেন। তাঁরা সবাই পতাকাবাহী গাড়িতেই যাবেন। পরে শপথ অনুষ্ঠান শেষে ওই গাড়িতেই তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু গাড়িতে আর পতাকা থাকবে না।