ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। গতকাল ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যাওয়া জামায়াত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। একই সঙ্গে এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও ঢাকা-১৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি ও জামায়াত নেতা মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) তাঁর ফেসবুক পোস্টেও ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব।’ একই কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও। গতকাল সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’ সমাজমাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণা দেওয়ার পর রাজনীতির আলোচনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা কী? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটির কার্যকারিতা কী? বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থা পরিচিত ধারণা। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা থেকে দেখা যায়, সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধী দল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করা হয়। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হলো সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়, এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। প্রচলিত কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।