আগামীকাল শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। সেই সঙ্গে বিদায় নিচ্ছে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। শপথ অনুষ্ঠানের পর উপদেষ্টাদের বাসায় নামিয়ে দেবে গাড়ি। তবে সে গাড়িতে থাকবে না পতাকা। বিদায়ের আগে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক (৬১তম) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা দিক, পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নতুন সরকারের শপথসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণ হওয়ায় ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ ও সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি উপস্থিত ছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টারা যাঁরা শপথের দিন যোগদান করবেন, তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে আসবেন। শপথ শেষে ওই গাড়ি তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেবে। গাড়িতে আর পতাকা থাকবে না।
প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে মূল এজেন্ডা ছিল নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা একটা মহাসাফল্য। বাংলাদেশে এর চেয়ে সুন্দর ইলেকশন আর হয়েছে কি না সন্দেহ। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ যত প্রতিষ্ঠান আছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা- পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার সবাইকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী খুব প্রশংসনীয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ক্যাবিনেটে বলা হয়, নির্বাচনটা অনেক দিক দিয়ে খুবই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। প্রথমবারের মতো আমরা ভালো একটা বিরোধী দল দেখতে পাব। যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে ছিলেন, তারাই বিরোধী দলে থাকছে। বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রেস সচিব বলেন, অনেকে বলতেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেছে। এই পুলিশকে দিয়ে আদৌ ভালো নির্বাচন করা সম্ভব কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। উপদেষ্টাদের কাছে মনে হয়েছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। নির্বাচনে তারা যথেষ্ট ভালো রোল প্লে করেছে। শফিকুল আলম বলেন, প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা নিজে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে বসে দেড় ঘণ্টার মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি সরাসরি ১৭টি কেন্দ্রে কথা বলেছেন। সুরক্ষা অ্যাপ নির্বাচন সমন্বয়ে ভালো কাজে দিয়েছে। উপদেষ্টারা আশা করেন, প্রযুক্তিগুলোর বিস্তার যত বাড়বে, আগামী নির্বাচনে তা আরও ভালো ফল দেবে। প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের পরে চারজনের মৃত্যুর কথা জানা যাচ্ছে। তার মধ্যে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় মারা গেছেন একজন। আর হাতিয়ার মেয়েটির ব্যাপারে একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে। তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখবেন ও তদন্ত করবেন। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকাল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কেবিনেটে শেষ বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এই দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’