সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। এ কারণে আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না। তবে পদোন্নতি বোর্ডের অধিকাংশই তাকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিয়ে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করেছেন। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের
আইনজীবীদের জেরায় এসব কথা বলেন তিনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেন সাবেক এ সেনাপ্রধানকে। পরে পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার নির্দেশসহ তিন অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ বিচার শুরু হয়। পরে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারী ছাত্রজনতার ওপর যে ব্যাপক হারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, এর মাস্টারমাইন্ডদের মধ্যে অন্যতম হলেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলক। কারণ তারা দুজনই আইসিটির দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন তারা।
সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জিয়াউলের পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।
জেরার একপর্যায়ে সাবেক সেনাপ্রধানের কাছে এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের পদোন্নতির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। ইকবাল করিমের উদ্দেশে আইনজীবী টিটো বলেন, আপনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন তথা ২০১২-১৫ সালের সময়টায় কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন জিয়াউল আহসান। একটি পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানান সাবেক এ সেনাপ্রধান। আর তা হলো লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি। পদোন্নতির ব্যাপারে কতজন সুপারিশ করেছেন, তা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, অধিকাংশই মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছেন। এ পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছি যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার। আমি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নই। তুমি পদোন্নতি সভায় এভাবেই উপস্থাপন করবে। পরে সভায় এভাবেই উপস্থাপন করেছেন মোমেন। তথাপি জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন অধিকাংশ সদস্য।