ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইকে অপমান করার শামিল বলে আমরা মনে করি। এই জুলাইয়ের কারণেই তো এই নির্বাচন এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, আর আমি হয়েছি বিরোধীদলীয় নেতা। জুলাই না এলে কি আমরা এটা হতে পারতাম? তাই আমাদের অবশ্যই জুলাইকে স্বীকৃতি দিতে হবে ও সম্মান করতে হবে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে সব সংস্কার প্রস্তাব সামনে এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এই সংসদের পবিত্র দায়িত্ব। গতকাল ভোরে রাজধানীর মনিপুর এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে ‘গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি’ কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জামায়াত আমির নিজ হাতে ঝাড়ু নিয়ে রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট গাড়িতে রাখেন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। আর সংস্কারের মাধ্যমে সমাজের আবর্জনা দূর করতে চাই। রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষের মনের ময়লাও দূর করতে চাই। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে যদি সরকারি দল উদ্যোগ নেয়, আমরা বিরোধী দল হিসেবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর সরকার যদি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা জনগণের হয়ে কথা বলব, কিন্তু ছেড়ে দেব না।
জামায়াত আমির বলেন, আমি চাই, আজ থেকে মিরপুর এলাকা একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক। এ কাজ করতে আমরা সরকারি ফান্ডের জন্য অপেক্ষা করব না। তবে আমার দাবি থাকবে- এই এলাকাকে যেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা না হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আন্তরিক হই ও নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখতে পারি, তবে আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আজকের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করার মানে হচ্ছে আমার প্রিয় মিরপুরবাসী ও দেশবাসীকে এই বার্তা দেওয়া যে, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ও দেশ গড়ব, যাতে করে আমাদের পরিবেশও সুন্দর থাকবে, আমাদের মনটাও সুন্দর থাকবে। আর পরিবেশ যখন সুন্দর থাকে, তখন তার ইতিবাচক প্রভাব মানুষের মনোজগতের ওপর পড়ে। তখন মানুষ ভালো হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়। আমরা সেই বার্তাটাই মূলত দিতে চাচ্ছি।