ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ডিএসসিসিতে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই। ফুটপাত-রাস্তা সব জায়গায়, সব সময় হকার বসতে পারবে না। জনগণ, হকার এবং রাস্তার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঈদের পরে আমরা একটা সমন্বিত পরিকল্পনা নেব। রাজধানীকে মশামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তুলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।
গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিন্তা করেন এভাবে সিটি করপোরেশন চলতে পারে না। তখন তিনি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসার আগ পর্যন্ত আমরা কাজ করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরে দেখলাম মশার কামড়ে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া দরকার এবং রাতে রাস্তায় আলোর সংকট রয়েছে। এ ছাড়া ডিএসসিসিতে ফান্ডের সংকট রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে বর্জ্য বহন করার জন্য ব্যবহৃত কিছু ট্রাক বিকল হয়ে থাকলেও তা মেরামত করা যাচ্ছে না। আমি এগুলো সচল করার চেষ্টা করছি।
আবদুস সালাম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কিছুদিন পরে বর্ষার মৌসুম শুরু হলে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এখন থেকেই মশার বংশবিস্তার রোধ করতে প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। এজন্য মশক নিধনে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলে মশক নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে, এটা চলমান থাকবে। এসব কাজে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে। নাগরিকদের উদ্দেশে বলব, সিটি করপোরেশন থেকে সেবা পাওয়া আপনাদের অধিকার। কিন্তু আপনাদেরও সচেতন হতে হবে। আমি মনে করি, রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তুলতে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের, ৫০ শতাংশ দায়িত্ব জনগণের। নাগরিক যদি সচেতন না হয়, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে তাহলে রাজধানী পরিষ্কার করা কঠিন। বাড়িঘর ও দোকানের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে, যেখান থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তা সংগ্রহ করবে। কোনো বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকার বেশি নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অনুমোদন বাতিল করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম আরও বলেন, রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ শুরু করেছি। ট্রাফিক পুলিশ এবং সব যানবাহন মালিক-সমিতির সঙ্গে আমরা বসব। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করব, সবকিছুকে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। সমন্বিতভাবে কাজ করতে আমি মনে করি নগর সরকার প্রয়োজন। মেয়রের নেতৃত্বে সব সেবা সংস্থাগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমার নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠন করে দিয়েছেন। যাতে সরকারের সেবা সংস্থার প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয় আসে। নয়তো দেখা যাচ্ছে সিটি করপোরেশন নতুন রাস্তা তৈরি করল কিছুদিন পর সেখানে ওয়াসা কিংবা তিতাস গ্যাসের পাইপ বসানোর প্রয়োজন হলো। তখন নতুন রাস্তা কাটতে হয়। তাই সব সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে যদি সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়া হয় তাহলে জনগণের অর্থের অপচয় এবং ভোগান্তি কমবে।
আবদুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা সচল করতে ডিএসসিসির এলাকার সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে আমার প্রতিটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করছি। যাতে যে কোনো সমস্যায় নাগরিকরা সহযোগিতা পান। আগাম বর্ষার বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ শুরু করেছি। এজন্য আগে খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে। এরপর সে জায়গায় যেন আর ময়লা ফেলা না হয় এজন্য জনসম্পৃক্তা বাড়ানো হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে মসজিদের ইমাম, শিক্ষার্থী, বাসাবাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়াদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।