মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তা সামাল দিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান মজুত দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। এজন্য বিভিন্ন খাতে রেশনিং করার কথা ভাবছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমার হাতে যা আছে তাকে সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সরবরাহ লাইন ঠিক না হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার এখন মূলত সংকট ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে। যুদ্ধ যতদিন থাকবে ততদিন ক্রাইসিস থাকবে। আমরা এখন ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট করছি। আমাদের চার কার্গো এলএনজি এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে। এগুলো ৯ মার্চের মধ্যে পৌঁছে যাবে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে স্পট পারচেজে তেমন সাড়া মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে অপচয় কমানোর জন্য নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি যা আছে সেটাকে সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে। দেশের মানুষ সহযোগিতা করলে এই ক্রাইসিস পার হয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। লোডশেডিং পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত যে রিভিউ করেছি তাতে মনে হয়েছে খুব একটা বেশি কিছু হবে না। এটি অসহনীয় হবে না। ইফতারি থেকে তারাবির সময় পর্যন্ত লোডশেডিং যাতে না হয় সেভাবে আমরা প্ল্যান করছি। আশা করছি আমাদের সংকট ঈদের ছুটি পর্যন্ত থাকবে। এ সময়টা যদি সাশ্রয় করে পার করা যায়, ছুটির পর চাহিদা কমে যাবে।
গত কিছুদিনে ডিজেল বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি সীমান্ত এলাকায় ডিজেল পাচারের আশঙ্কার কথা বলেন। এজন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।