সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর গতকাল তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিন ঢাকায় দিনভর বৈঠক করেছেন। পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও জ্বালানিমন্ত্রী এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টানা বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে নানা ইস্যুর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন নির্বাচনের পর ঢাকা সফরে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। এ ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সংকট সমাধানে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর গতকাল সকালে প্রথমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রথমে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনাকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। অন্যদিকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পারস্পরিক বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তির বিধানসমূহ বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পল কাপুর বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো অভিনন্দনপত্রের কথাও উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে : বৈঠকের পর বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাদের ফিরিরে আনার ব্যাপারেও কথা বলেছি।
জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা চায় বাংলাদেশ : পল কাপুর গতকাল সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে তাঁর কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। সাংবাদিকদের বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানির একটি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে যেসব জ্বালানি সরবরাহের কথা ছিল সেগুলোর কিছু আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশকে কী ধরনের সহায়তা করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সংশোধনের সুযোগ আছে : গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি। বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।