ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহর আক্রান্ত হয়েছে। খবর পাওয়া গেছে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুরও। হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেমন আতঙ্কে রয়েছেন, সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে কাজ হারানোর দুশ্চিন্তা। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সৌদি আরবে থাকা কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি গতকাল টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এমন দুশ্চিন্তার কথা জানান।
এদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা এখন কাজ করতে পারছেন না। কেউ জানিয়েছেন মাঝে মাঝে কাজে গেলেও হামলা হলে ফেরত আসতে হচ্ছে। ফলে টাকা পাবেন কি না তা অনিশ্চিত। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যারা স্থায়ী চাকরি করেন, তাদের খুব একটা সমস্যা না থাকলেও যারা ফ্রি ভিসা বা অবৈধভাবে থেকে কাজ করেন, তারা বেশি সমস্যায় পড়বেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে হয়তো দেশেও ফিরতে হতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এক নজিরবিহীন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক দিনেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান, ইরাক এবং সাইপ্রাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। কুয়েতের আল জাহারা এলাকার বাসিন্দা ঢাকার মোহাম্মদ আজম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমেরিকান ঘাঁটি লক্ষ্য করে কুয়েতে দফায় দফায় মিসাইল হামলা হচ্ছে। অনেক মিসাইল আকাশে ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে বিকট শব্দ হয়, সবাই খুব আতঙ্কিত। তিনি বলেন, আকাশে ধ্বংস করা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়তেছে। কখন কার ওপরে পড়ে, তা তো বলা যায় না। তিনি বলেন, সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এ জরুরি অবস্থায় আমাদের মতো শ্রমিকরা বেশি সমস্যায় পড়েছে। যারা পারমান্যান্ট চাকরি করেন, তাদের কোনো সমস্যা নেই। কাজ না করতে পারলেও বেতন পাবেন। তবে যারা ফ্রি ভিসায় আছেন বা অবৈধভাবে আছেন, তারা বেশি সমস্যায়। যুদ্ধের কারণে খুব একটা কাজও নেই। কেউ ফাঁকফোকর গলিয়ে কিছু কাজ করতেছেন, তবে অধিকাংশই বেকার। এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমরা খুবই সমস্যায় পড়ব। কাতারের রাজধানী দোহায় থাকা ঢাকার মোহাম্মদ জসিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি ফ্রি ভিসায় এখানে আছি। এমনিতেই কাজ কম থাকে। কাতারে যখন থেকে হামলা শুরু হয়েছে তখন থেকে কাজ একেবারে নেই বললেই চলে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একদিন কাজ করতে পেরেছি। অনেক প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে আছে। তিনি বলেন, মাথার ওপর দিয়ে মিসাইল যেতে দেখি, মনে হয় আমাদের ওপরেই পড়বে হয়তো। এর সঙ্গে কাজও করতে পারতেছি না। এ পরিস্থিতি যদি বেশি দিন চলতে থাকে, তাহলে আমাদের খুবই সমস্যা হবে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাস চলছে, সামনে ঈদ। এখন কোনো কাজ করতে পারতেছি না। ঈদ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকলে হয়তো দেশে থাকা পরিবারকে ঈদ করার জন্য টাকাও পাঠাতে পারব না।
যারা ফ্রি ভিসায় আছেন, তাদেরই বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানান এই প্রবাসী বাংলাদেশি। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের হামরা এলাকায় বসবাস করা মুন্সিগঞ্জের রাজু জমাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার কোনো স্থায়ী চাকরি নেই। ফ্রি ভিসা নিয়ে এসেছি সৌদি আরব। রিয়াদের আরামকো অয়েল রিফাইনারিতে হামলার পর থেকেই কাজ বন্ধ।
তিনি বলেন, আমি যেখানে কাজ করতাম, সেটা আরামকো অয়েল রিফাইনারির কাছে। এজন্য অফিস বন্ধ রেখেছে। কাজ করতে না পারলে কোম্পানি টাকা দেবে কি না, সেটাও জানি না। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও ভিসাসংক্রান্ত বিষয়ে দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।