প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং দেশে ফেরার সময় মাত্র চারজন কর্মকর্তাকে বিমানবন্দরে থাকতে হবে। এতদিন এই সংখ্যা ছিল কয়েক গুণ বেশি। গতকাল ‘প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় রাষ্ট্রাচার’ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব উপস্থিত থাকবেন। এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিদেশযাত্রা ও ফেরার সময় বিমানবন্দরে রাষ্ট্রাচার নিয়ে নির্দেশনা জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি ও রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশ যাত্রা এবং সফর শেষে দেশে ফেরার সময় নিচে উল্লিখিত ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম একজন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত উপদেষ্টা ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশ/দেশগুলোর মিশন প্রধানরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।
বিদ্যুতে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজেও বিদ্যুৎ ব্যবহারকে সাশ্রয়ী করতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রান্না ও অন্যান্য কাজে গ্যাস ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। গ্যাসচালিত যন্ত্রপাতির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করতে হবে। ব্যক্তিগত যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে শেয়ারিং (কার-পুলিং) ব্যবস্থা অবলম্বনকে উৎসাহিত করতে হবে। জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত যথাসম্ভব সীমিত/পরিহার করতে হবে। সব সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অফিস চলাকালীন এবং অফিস-পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি অফিসে ১১ দফা নির্দেশনা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসগুলোতে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনায় সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং সরকারি গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে। অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে। অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
কূটনীতিক আর এতিম-ওলামা ছাড়া সব ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল : দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় কূটনীতিক আর এতিম-ওলামা ছাড়া সব ইফতার মাহফিল এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আজ কূটনীতিকদের সম্মানে এবং কাল এতিম-আলেম-ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে দুটি ইফতার মাহফিলে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া রাজনীবিদদের সম্মানে ৮ মার্চ এবং সাংবাদিকদের সম্মানে ১০ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনায় ইফতার পার্টির সময়সূচি নির্ধারিত থাকলেও সেগুলো প্রধানমন্ত্রী বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।