তখন পটুয়াখালী ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বাদল ব্যানার্জী। তিনি বলেন, তখন গণ আন্দোলন চলমান। ১৯৬৯ সাল। কলেজের ছাত্ররা সবাই মিলে আন্দোলনে নেমে পড়লাম। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পুরাতন টাউন হলে বারেক ঢালীকে সভাপতি ও সর্দার আবদুর রশিদকে সেক্রেটারি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কমিটি গঠন করা হয়। এর পরে এলো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। এ দিন মুক্তিযুদ্ধের জন্য দিকনির্দেশনা দেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নির্দেশমতো খাজনা-ট্যাক্সসহ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৫ মার্চ ইপিআরের মাধ্যমে স্বাধীনতার টেলেক্সে মেসেজ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। রাতে এ মেসেজ পৌঁছায় আমাদের সভাপতির কাছে। বাদল ব্যানার্জী বলেন, ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ঢাকায় শুরু হয় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ। রাজারবাগ পুলিশলাইন, পিলখানাসহ বহু জায়গায় তারা হামলা চালায়। শুরু হলো নতুন যুদ্ধ। পটুয়াখালীতে মাইকিং করে প্রচার করা হলো-বাঙালি সেনা, ইপিআর সদস্যসহ সবাই যেন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। তিনি বলেন, তখন পটুয়াখালীতে জুবিলী স্কুলে খোলা হয় অস্থায়ী ক্যাম্প। মাইকিং করে এ ক্যাম্পে এসেই সবাইকে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর ছাত্র, পুলিশ, ইপিআর, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ মুক্তিকামী মানুষ মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শ লোক এখানে সমবেত হই। আমরা সবাই ট্রেনিং নেওয়ার জন্য নাম লেখালাম। শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা প্রশিক্ষণ। সিভিল ডিফেন্সের যে কাঠের রাইফেল ছিল, সেটা দিয়েই প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু হলো। তারপর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা ৬০টি থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল নিয়ে এলেন। তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছিল সাবেক এমপি হাবিবুর রহমানের ওপর। মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুম করা হলো মহিলা কলেজের ভিতর।
স্মরণীয় ঘটনা : ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। সদর উপজেলার মাদারবুনিয়ায় আলী আজীম খান নামে এক ভদ্রলোক মেম্বার ছিলেন। তাঁর এখানেই আমাদের অবস্থান। তিনি দুপুরে আমাদের ২১ জনের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। তখন সময় ১টা। হঠাৎ রেকি গ্রুপের সদস্য দৌড়ে এসে জানালেন, হানাদার বাহিনীর দুটি স্পিডবোট এগিয়ে আসছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২১ জনের মুক্তিযোদ্ধা দল খালপারে বেড়িবাঁধের বাইরে পজিশন নিলাম। বন্দুক লোড করে পাক বাহিনীর দিকে তাক করে রাখলাম। তখন দেখি কিছু পাক বাহিনীর পোশাক পরা, কিছু কালো পোশাক পরা মিলিশিয়া, কিছু পাকিস্তানি পুলিশ ও রাজাকার মিলিয়ে ২৫-২৬ জন ওপারে বাজারে দাঁড়িয়ে আছে। ওদের মধ্য থেকে পাঁচজন একটি ডিঙিতে খাল পার হয়ে আমাদের দিকে আসছে। তখনই আমরা ফায়ার ওপেন করলাম।
তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা : বাদল ব্যানার্জী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেক্টর কমান্ডার জেনারেল জিয়াউর রহমানের সন্তান। তিনি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে-যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি; তার ধারাবাহিকতায় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন। তিনি লক্ষ রাখবেন আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন বজায় থাকে।