মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার মন্ত্রিপর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি এখন সারা বিশ্বেরই একটা সমস্যা। এ যুদ্ধটা যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে আমরা বেশ সমস্যায় পড়ে যাব। এটার জন্য আমাদের মন্ত্রিপর্যায়ে একটা কমিটি করা হয়েছে, যাতে এ ক্রাইসিসটা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়। কমিটির প্রধান অর্থমন্ত্রীকে করা হয়েছে। মূলত আর্থিক ব্যাপারগুলো দেখবেন তিনি। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ নাসিমুল গনি বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেটা করেছেন লাইটের ব্যবহার অর্ধেক করে দিয়েছেন। বলেছেন, কোনো ব্লাইন্ড পর্দা থাকবে না, তাহলে যথেষ্ট পরিমাণ সানলাইট (সূর্যের আলো) আসবে। বাথরুমের লাইট জ্বালানো থাকে, এগুলো থাকবে না। করিডরে এনার্জি সেভিংস লাইট লাগাতে বলেছেন।’ এসির ব্যাপারে কিছু বলেছেন কি না-জানতে চাইলে বলেন, ‘এসির বিষয়ে বলেছেন, অবৈধ এসি থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে। ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কোনো এসি চলবে না। এটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। সরকারি সব অফিস-আদালত সবার জন্য।’ আগেও এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির ওপরে রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি-এমনে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাস্তবায়নের জন্য এবারে কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে। তারা যাবে, সেগুলো এনফোর্স করবে। এখন আমাদের জাতিগতভাবে কিছু উন্নয়ন হতে হবে। আমাদের সমস্ত মানতে হবে।’
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সময়নিষ্ঠার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এখন থেকে আর কোনো দেরি সহ্য করা হবে না। কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অত্যন্ত সময়সচেতন এবং প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই তাঁর দপ্তরে উপস্থিত হন। এমনকি রাজধানীর যানজট এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে চলে আসেন।’ প্রশাসনে বড় ধরনের কোনো রদবদল বা পরিবর্তন আসছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘সময়ের প্রয়োজনে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসতেই পারে এবং তা সময় হলেই দৃশ্যমান হবে।’ এখন থেকে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।