বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ ভরি সোনার অলংকার গায়েব হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। গতকাল শহরের খানজাহান আলী সড়কের ব্যাংক শাখা পরিদর্শন করে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন। ঘটনা জানাজানির পর বিকালে জেলার পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরীও ব্যাংক পরিদর্শন করেন।
সোনার অলংকার খোয়া যাওয়া ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের বাড়ি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে আমার একটি লকার রয়েছে। সেখানে আমি গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই, স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের প্রায় ২০০ ভরি সোনার অলংকার একটি বাক্সে জমা রাখি। বুধবার বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেজন্য ব্যাংকে এসে লকার খুলে দেখি কোনো সোনার অলংকার নেই। লকার খালি। আমি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি। তারা তদন্ত করছে।’ পূবালী ব্যাংকের ওই শাখার গ্রাহক মাহফুজুর রহমান বলেন, সুরক্ষিত লকার থেকে এক গ্রাহকের সোনার অলংকার গায়েব হয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে দুপুরে ব্যাংকে আসি। এমন ঘটনা শুনে আমি উদ্বিগ্ন হয়েছি। আমারও এই ব্যাংকের লকারে সোনার অলংকার রাখা আছে। আমি এসে আমার লকার খুলে পরীক্ষা করেছি। আমার সোনার অলংকার সব ঠিকঠাক আছে।
বাগেরহাট পূবালী ব্যাংক (পিএলসি) শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন বলেন, এক গ্রাহকের কিছু মালামাল লকারে রাখা ছিল তা তিনি এখন দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ এসে ঘটনা তদন্ত করছে। তদন্তের পরই জানা যাবে আসলে ঘটনাটি কী ঘটেছে।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন বলেন, সুমন দাস নামে এক গ্রাহকের ব্যাংকের লকারে রাখা স্বর্ণালংকার পাওয়া যাচ্ছে না- এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকে আসি। ব্যাংকের লকার পরিদর্শন করেছি। লকার আমরা সুরক্ষিত পেয়েছি। ব্যাংকের সুরক্ষিত লকার থেকে কীভাবে বিপুল পরিমাণ সোনার অলংকার খোয়া গেল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।