যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। গতকাল আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। সূত্র : বিবিসি, আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা।
ডোমিঙ্গুয়েজ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। এ অচলাবস্থার কারণে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নাবিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রমোদতরির আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রীও বর্তমানে চরম মানবিক দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার সংকটে পড়েছেন।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমানে এই প্রণালির ওপর তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটিকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের লেকচারার এড হির্স জানিয়েছেন, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা তেলের অর্ধেক সরবরাহও বন্ধ থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী এখন আর বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিতে না পারায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম হামলার প্রথম দিনেই ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ট্যাংকারে হামলা, নিহত ২ : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার ও ক্রু সদস্য দলীপ সিং। আশীষ কুমারের বাড়ি ভারতের বিহার এবং দলীপ সিংয়ের বাড়ি রাজস্থানে। জানা গেছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ ২২ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। পরে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ উপকূলের কাছে জাহাজটিতে হামলা হয়। এর আগে দেশটির দুকম বন্দর এলাকাতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) এক বিবৃতিতে জানায়, পালাউ প্রজাতন্ত্রের পতাকাবাহী ট্যাংকারটি মুসান্দাম গভর্নরেটের খাসাব বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন- এর মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং ৫ জন ইরানি। হামলার পর জাহাজে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হলেও দুজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।
২৪ ক্রুকে বাঁচালো ওমান : গত বুধবার হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি ট্যাংকার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরান। বিধ্বস্ত সেই জাহাজটিতে ২৪ জন ক্রু ছিলেন, তাদের সবাইকে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর জানিয়েছে, মাল্টার পতকাবাহী সেই ট্যাংকার জাহাজটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওমানের নৌবাহিনীর তৎপরতায় বিধ্বস্ত সেই ট্যাংকার থেকে উদ্ধার করা হয় জাহাজটি ২৪ জন ক্রুর সবাইকে। হামলায় কোনো ক্রু’র নিহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি, তবে কয়েক জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ওমানের নৌবাহিনী।