ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানা গেছে, মাদক সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) এ হামলা শুরু করা হয়। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো বিবরণ পাওয়া যায়নি। সূত্র : আলজাজিরা।
হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা করেছে, দেশটিতে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা ইকুয়েডরকে সহযোগিতা করছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক কার্যক্রম তদারকিকারী ইউনিট) জানায়, ইকুয়েডরে যৌথ অভিযান চলছে। ইকুয়েডর ও মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশটির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এ অভিযান শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ যৌথ অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে মাদক-সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছি, যারা দীর্ঘকাল ধরে এ গোলার্ধের নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও দুর্নীতি চাপিয়ে দিয়েছে।’
ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, তারা ইকুয়েডরের মাটিতে সক্রিয় মাদক-সন্ত্রাসীদের দমনে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সহযোগিতার একটি নতুন পর্যায় শুরু করেছে। অন্যদিকে সমালোচকরা মার্কিন হামলাকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছেন, কারণ বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সংখ্যা বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন সমাজমাধ্যমে বলেন, ‘এ যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী এবং লক্ষ্যবস্ত কারা, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি।’ তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে মাদক পাচার একটি অপরাধ, ‘যুদ্ধের কাজ’ নয়। ফলে সামরিক হামলা চালিয়ে সন্দেহভাজনদের হত্যা করা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।