ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে ডেপুটি স্পিকার পদ ঘিরে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সরকারপক্ষের প্রস্তাব-প্রধান বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে। তবে বিরোধী শিবির বার্তা দিয়েছে, গণভোটে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া তারা আপাতত এই পদ গ্রহণ করবেন না। ফলে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনকে ঘিরে যে ঐকমত্যের বার্তা সরকার দিতে চেয়েছিল, তা এখন শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক সমীকরণে আটকে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইফতার-পরবর্তী এক চা চক্রে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য জামায়াত আমিরের কাছে দলটির পক্ষ থেকে নাম দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরে গত সোমবার সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, জুলাই সনদের প্রতি সম্মান রেখে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে এমন আহ্বানের পর রাজনৈতিক মাঠে শুরু হয় নানা আলোচনা। তবে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থায় উভয় কক্ষের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার বিধান সংবিধানে যুক্ত করার কথা রয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি সরকারি দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল কোনো প্রস্তাব নয়; বরং গণভোটে অনুমোদিত রাজনৈতিক সমঝোতার বাধ্যবাধকতা। তাদের দাবি, জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পর ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব নিয়ে ভাববেন তারা। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, সংবিধানের আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে ভেবে দেখবে জামায়াত। তবে সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।