আন্তর্জাতিক শিশু যৌন শোষণ ও পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে পলাতক থাকা বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে (২৮) মালয়েশিয়া থেকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সূত্র : রয়টার্স।
গতকাল এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর জোবাইদুলকে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন অভিযোগে জোবাইদুলকে খোঁজা হচ্ছিল। এফবিআই জানায়, ২০২২ সাল থেকে জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশুদের যৌন শোষণের একটি বড় চক্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। এর পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে মার্কিন গোয়েন্দারা তৎপরতা শুরু করে। এরপর এফবিআইয়ের কুয়ালালামপুর শাখা ও মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতায় আত্মগোপনে থাকা জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে জোবাইদুল আমিনের ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যৌনভাবে স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, এ অপরাধ শুধু আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ছাড়াও বিদেশের বিভিন্ন দেশে তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনার আগে জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন।