মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। দুই পক্ষই এবার ভয়াবহ অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করল। প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান। অন্যদিকে ইরানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বোমা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান প্রতিবেশীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আজ তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না তার দেশ। এদিকে যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর বিশ্বনেতাদের মাঝে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
যুদ্ধের অষ্টম দিন গতকালও ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। জেরুজালেমসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। গতকালের হামলায় প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরান হামলার ২৫তম দফায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের গতির চেয়ে ৫ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে হাইপারসোনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলার জেরে সারা রাত লাখ লাখ ইসরায়েলিকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (বাংকারে) অবস্থান করতে হয়েছে।
ইসরায়েলের বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে ইরান এমন কৌশল নিয়েছে; যাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলিদের দীর্ঘ সময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য করা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় একটি মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগকেন্দ্র, সতর্কীকরণ এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দুটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৮টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়াও ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সামরিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় একটি সংরক্ষণাগারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘প্রিমা’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ এবং পরিস্থিতি অনিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও নৌবাহিনীর বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ট্যাংকারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী গতকালও ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সামরিক ও সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের আকাশে বিশাল অগ্নিকুণ্ডলী ও ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। এ আগুন ও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে তেহরানের প্রধান এবং ব্যস্ততম মেহরাবাদ বিমানবন্দরের দিক থেকে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা তেহরান ও ইসফাহানে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে নতুন দফা বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত শনিবার শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরিতে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ইরানের সেসব অঞ্চলকে যেখান থেকে তাদের ওপর যেকোনো সময় হামলা হতে পারে। এসব হামলার লক্ষ্য হলো ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীর সরঞ্জাম ধ্বংস করা।
এদিকে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অন্তত ৬ হাজার ৬৬৮টি বেসামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৩৫টি আবাসিক ভবন, ১ হাজার ৪১টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র, ৬৫টি বিদ্যালয় ও ১৩টি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসংশ্লিষ্ট কেন্দ্র রয়েছে। এসব হামলার সময় বেশ কিছু উদ্ধারকারী ও ত্রাণবাহী যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান ছাড়াও লেবাননে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে গতকাল রাতভর হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল রাতভর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার, অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে হিজবুল্লাহর রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেল এলাকায় দুটি রাদওয়ান কমান্ড সেন্টারেও আঘাত করা হয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
জবাবে ইসরায়েলের দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ইসরায়েলি শহর একরের পূর্বে তজরিফিন ঘাঁটিতে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়াও লেবাননের সীমান্তবর্তী শহর কাফারকেলার ফাতিমা গেট ক্রসিংয়ের কাছে যানবাহন লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানকে কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানে আজ ‘কঠোর আঘাত হানা হবে’। নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। আর তাদের দিকে হামলা চালাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরামহীনভাবে হামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না।
কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আগ্রাসনের মুখে কোনো পরিস্থিতিতেই ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। শত্রুদের উচিত ইরানি জাতি আত্মসমর্পণ করবে-এমন আশা ত্যাগ করা। গতকাল এক ভিডিও বার্তায় ইরানের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে শুরু হওয়া উসকানিবিহীন যুদ্ধের মুখে দেশের ভিতরের সব মতপার্থক্য দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। সবাইকে শক্তভাবে নিজেদের দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষায় এক হতে হবে।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান সংকট থেকে সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত ইরান দৃঢ়ভাবে অবস্থান ধরে রাখবে। নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ধারণা ইরানের শত্রুদের কেবল একটি স্বপ্ন, যা তাদের ভুলে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন ও মৌলিক মানবিক নীতিমালা মেনে চলে এবং সব দেশেরই এগুলোকে সম্মান করা উচিত।
প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান বলেন, তাদের ওপর আক্রমণ করার কোনো উদ্দেশ্য ইরানের নেই এবং তাদেরকে ভাই হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইসরায়েলে জরুরি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র : ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝেই ইসরায়েলের কাছে আনুমানিক ১৫ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের জরুরি অস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মধ্যে বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইসরায়েল সরকারের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে এ অস্ত্র বিক্রির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ত্রের এ প্যাকেজে বিএলইউ-১১০এ/বি বোমা এবং লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন এবং এ অঞ্চলের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে সাহায্য করবে।
কুর্দিরা ইরানের বিরুদ্ধে গেলে ধ্বংস করে দেওয়া হবে : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যদি এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে। গতকাল সকালে আইআরজিসি ইরাকের কুর্দি-অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দিদের তিনটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর বিশ্বনেতাদের তৎপরতা : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ হওয়ার এক সপ্তাহ পর গতকাল বিশ্বনেতাদের মাঝে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এ সময় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসামরিক মানুষ নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন পুতিন। এ ছাড়া দ্রুত সময়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং কূটনৈতিক মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থন জানানোয় রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ ছাড়াও চলমান যুদ্ধ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। বিবৃতিতে তিনি সব পক্ষকে আহ্বান জানান, যত দ্রুত সম্ভব সহিংসতা বন্ধ করে কূটনীতির পথে ফিরে আসুন। ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধকে অসাধারণ ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার পর বৈঠকে বসছে আরব লিগ। সংস্থাটির সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি এই বৈঠক ডেকেছেন। আর বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান ও মিসর। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশ কয়েকটি আরব দেশে ইরানি হামলার বিষয়ে আলোচনা করতে রবিবার সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন। ভিডিও কনফারেন্সে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সুন্নি মুসলিম ধর্মীয় নেতারা। এক যৌথ বিবৃতিতে ৬৬০ জন সুন্নি আলেম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আলেম-ওলামা, চিন্তাবিদ এবং বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।