নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুই দিন পার হলেও ভোট গণনার পুরো ফল পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় এগিয়ে থাকার কারণে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, দেশটিতে কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র এবং সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থানে শীর্ষ ভূমিকা রাখা বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে জেন-জিদের সরকার গঠন হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ভোট গণনার পুরো ফল পেতে আরও এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে সরকার গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। সূত্র : কাঠমান্ডু পোস্ট।
গতকাল সকাল পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, যত ভোট গণনা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বালেন্দ্র শাহের মধ্যপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় এগিয়ে আছে। নেপাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (প্রতিনিধি সভা)-এর ২৭৫ আসনের জন্য গত বৃহস্পতিবার জোড়া ব্যালটে ভোট দেন নেপালিরা। এর মধ্যে ১৬৫টিতে প্রত্যক্ষ এবং ১১০টিতে পরোক্ষ (সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে) নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যক্ষ নির্বাচনের গণনার ফল এবং প্রবণতা বলছে, ১১৯টি আসন পেতে চলেছে আরএসপি। সংশ্লিষ্টরা জানান, নেপালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে গত সেপ্টেম্বরে ‘গণ অভ্যুত্থানে’ সরকার বদলের কারিগর জেন-জিদের (তরুণ প্রজন্ম) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। এই দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন্দ্র শাহ-ই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। ভোটের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনে গগন থাপার নেপালি কংগ্রেস দল দ্বিতীয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। নেপালি কংগ্রেস ১৮, ইউএমএল ১৩ এবং প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা নেতা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৮টি আসনে জিততে চলেছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, চূড়ান্ত ফলাফল আগামী সপ্তাহের আগে নাও আসতে পারে। পাহাড়ি দেশ নেপালে ভোট গণনা ঐতিহ্যগতভাবে ধীরগতির এবং দূরবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে ব্যালট আনার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ২০২২ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগেছিল। কে এই বালেন্দ্র শাহ : বালেন্দ্র শাহ নাম হলেও স্থানীয়ভাবে ‘বালেন’ নামে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সি এ নেতা অবকাঠামো প্রকৌশলী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং কয়েক বছর ধরে নেপালের হিপ হপ অঙ্গন ‘নেফপ’-এ সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
তিনি বহু গান প্রকাশ করেছেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সামাজিক বার্তাধর্মী। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত গান ‘বালিদান’ যার অর্থ ‘ত্যাগম’। এটি ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, পরে যা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার ক্ষোভে পরিণত হয়, সে সময় দেশের তরুণদের মধ্যে বালেন্দ্র শাহের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়। সে সময় ৭৭ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর নেপালের তৎকালীন নেতা কেপি ওলিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। বালেন্দ্র শাহ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে কেপি ওলিকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। এসব বক্তব্যের কারণে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, দেশ পরিচালনার জন্য তিনি কতটা উপযুক্ত। মেয়র হিসেবে রাজধানীর সড়কগুলো পরিষ্কার রাখতে এবং অবৈধ ব্যবসা দমনে তিনি রাস্তার হকার ও ভূমিহীন মানুষের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পুলিশ ব্যবহার করেছেন, যার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েন।