ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইঙ্গিতের পর গতকাল সকালে এশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল’-এর (অপরিশোধিত তেল) দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে দামের এ পতনের পরও চলমান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি রয়েছে। দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে’। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ বন্ধের আভাসের পরও বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে বিদ্যমান উদ্বেগ কাটেনি। ইরানে মার্কিন হামলা ঘিরে জ্বালানি তেল পরিবহনে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে তা বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার বরাতে গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়বে, এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে অচলাবস্থা যত বেশি দীর্ঘ হবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব তত বেশি ভয়াবহ হবে।’ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার গতকাল ১১ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বে তেলের মজুত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বলেও যোগ করেন আমিন নাসের। এদিকে ট্রাম্পের তরফে শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধের আভাসের মধ্যেই তার প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মঙ্গলবার (গতকাল) ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হবে। স্থানীয় সময় সোমবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি দেন তিনি। অপরদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে শিগগিরই সংঘাতের ইতি টানার ইঙ্গিত ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাঝেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) হুমকি দিয়েছে যে, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেবে না তারা। গতকাল আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’ এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে দেশটিকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে।’ এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে তেলের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলেও চলতি মাসের শেষ নাগাদ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। কেপলার নামে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মিডল ইস্ট এনার্জি বিষয়ক প্রধান আমেনা বকর সিএনএনকে বলেন, ‘হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নাবস্থা বর্তমানেরর মতো অব্যাহত থাকলে তেলের দাম সহজেই ওই পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের আভাস সত্ত্বেও বিশ্বের তেলের বাজারে আস্থা ফিরেনি বলেও যোগ করেন তিনি। খবর সিএনএন, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।