আমি তখন বৃন্দাবন কলেজের ছাত্র। মূলত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমিসহ আমার কয়েকজন সহকর্মী শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা রেডিওতে শুনেই যুদ্ধে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেই। এর আগে ৬৯-এর গণ আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টর থেকে মেজর সিআর দত্তের নেতৃত্বে যুদ্ধ করি। যুদ্ধে যাওয়ার শুরুতেই আমিসহ আমার সহকর্মীরা বিশাল ধাক্কা পাই। যা আমাদের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। আমরা যখন তেলিয়াপাড়া থেকে ভারত সীমান্তের ওপারে বাঁশবাড়িতে ট্রেনিংয়ের উদ্দেশে যাই তখন আমাদের ওইখানে তিন দিন থাকতে হয়। তিন দিন পর হঠাৎ করে খবর এলো যে আমাদের অবস্থান পাকিস্তানি সৈন্যরা জানতে পেরে গেছে। তখন আমাদের ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মতিন জানায় আমাদের সঙ্গে গোলাবারুদসহ যা আছে সবকিছু নিয়ে চলে যেতে হবে। তারপর আমরা গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি নিয়ে ভারতের গভীর জঙ্গল সিমলাতে যাই। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম যে আমরা যেই জায়গাটিতে তিন দিন অবস্থান করছিলাম সেই জায়গাটি পাকিস্তানি বাহিনীদের হামলায় গভীর খাদে পরিণত হয়ে দিঘির মতো হয়ে গেছে। তবে আমরা আগেই সরে যাওয়ায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জুলাই আন্দোলনের পর একটা রাজনৈতিক দল ৭১-কে মাইনাস করতে চেয়েছিল। এখনো তারা তাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের বহু মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সে হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একজন সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার ঘোষকের পুত্র। তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তিনি আমাদের কী চাওয়া তা ভালো কওে বোঝেন। তাই আমরা আশা করি আমাদের চাওয়া পাওয়া ও অভাব অভিযোগ তিনি আমাদের বলার আগেই পূরণ করবেন এবং কোনো অপশক্তি যেন দেশটাকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত না করতে পারে সে জন্য তিনি জোরালো পদক্ষেপ নেবেন।
-গোলাম মোস্তফা রফিক
হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক