দেশজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পেট্রোল পাম্প বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা চরম চাপ, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পেট্রোল পাম্পগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে। গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাম্প মালিকরা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। সংগঠনের নেতারা বলেন, সরকার একদিকে বলছে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে, অপরদিকে রেশনিং করে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদেরই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অনেকেই ‘তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে’- এমন ধারণা নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবিগুলো হলো- প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি সেনা সদস্য মোতায়েন, মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো বিভাজন বা আলাদা শর্ত না রাখা, বড় ও ছোট সব ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিপণন কোম্পানি থেকে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, এজেন্সি পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে তেল সরবরাহ চালু রাখা, মনিটরিংয়ের নামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক শাস্তি দেওয়া বন্ধ করা, কোনো ফিলিং স্টেশন বা রিভার ভেসেলে অবৈধ তেল মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তেলের ডিপোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করা।
বিভাগীয় শহরে অকটেন-পেট্রোল সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত : চলমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি আগের চেয়ে বাড়িয়ে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গতকাল বিপিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখতে দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেল (অকটেন ও পেট্রোল) বিক্রির গড় হার ২৫ শতাংশ কমানোর পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ কমিয়ে ফিলিং স্টেশনপ্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে।