অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ম্যাচ শেষে অভিনন্দন জানান নাহিদ রানাকে। অভিনন্দন জানান হেড কোচ ফিল সিমন্স, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও। পেস বোলিং কোচ শন টেইট মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বুঝিয়ে দেন, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নায়ক ‘নাহিদ, তুমি-ই’। অধিনায়ক, কোচ; কেউই ভুল বলেননি। মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি বাংলাদেশ জিতেছে হেসেখেলে। ৮ উইকেটে পাহাড়সমান ব্যবধানে রেকর্ড গড়ে জয়ের নায়ক ফাস্ট বোলার নাহিদ। ডান হাতি ফাস্ট বোলারের ‘টর্নেডো’ বোলিং এবং তানজিদ তামিমের ‘ঘূর্ণিঝড়’ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেছে ২০৯ বল হাতে রেখে। যা পাকিস্তানের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জয়। অবশ্য এরচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে বাংলাদেশের জয় রয়েছে আরও দুটি। চলতি বছর ৫০ ওভারের ফরম্যাটে গতকালই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জয়োৎসবে বছর শুরু করেন টাইগাররা। ম্যাচ দেখতে আসেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এদিন ম্যাচ দেখতে মিরপুর স্টেডিয়ামে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি প্রায় পুরোটা সময় মাঠে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম ওয়ানডে উপভোগ করেন। ‘নাহিদ-তানজিদ’ যুগলের পারফরম্যান্সে ১০০ ওভারের প্রথম ওয়ানডের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৪৫.৫ ওভার! সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতেছে ২০১৮ সালের পর।
আট বছর আগে ‘মরুশহর’ আবুধাবীতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ জিতেছিল। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ ম্যাচে ষষ্ঠ জয় পেয়েছে টাইগাররা। আগামীকাল মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। জিতলেই দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। ২০১৫ সালে ঘরের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়গুলো যথাক্রমে ৬২ রান (১৯৯৯ সাল), ৭৯ রান , ৭ ও ৮ উইকেট, ৩৭ রান এবং ৮ উইকেটে। দুই দলের ক্রিকেটার এবং দর্শকদের ইফতারের বিরতি রাখা হয়েছিল ৪০ মিনিট। খেলা শুরু হয় সোয়া ২টায়। মিরাজ বাহিনীর অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে ইফতারের আগেই খেলা শেষ হয়ে যায়।
সবুজ ঘাস আচ্ছাদিত উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং নেন টাইগার অধিনায়ক মিরাজ। এটা তার অধিনায়কত্বের ক্যারিয়ারের ১৪তম ম্যাচ। উইকেটের গতি, সুইং আদায়ে মিরাজ বাহিনী একাদশ সাজায় তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদকে নিয়ে। নতুন বলে ইনিংস শুরু করেন তাসকিন ও মুস্তাফিজ। দুজনে শুরুতে ৬ ওভার বোলিং করেন। স্বাগতিক দুই পেসারকে সাবলীল খেলে ১০ ওভারে ৪১ রানে ভিত দেন দুই অভিষিক্ত সাহিবজাদা ফারহান ও মাঝ সাদাক। বোলিংয়ে নাহিদ আসার পরই তার গতিরে বিপক্ষে ছন্দ হারিয়ে ফেলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা। ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নাহিদের ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’ ও মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের যা সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ১৯৯৯ সালে নর্দাম্পটনে ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ম্যাচসেরা নাহিদের স্পেল ৭-০-২৪-৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে যা বাংলাদেশের বোলারদের মদ্যে সেরা। আগের রেকর্ড মুস্তাফিজুর রহমানের ৭৫ রানে ৫ উইকেট। বাংলাদেশের সেরা বোলিং স্পেল মাশরাফি বিন মর্তুজার, কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট।