তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। গণমাধ্যম ছাড়া আধুনিক সভ্যতার কথা চিন্তা করা যায় না। গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে থেকে যায়। তাই গণমাধ্যম রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের যে সংকট চলছে, সেই সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, আশা করি তাঁর সঙ্গে থাকবে বাংলাদেশ প্রতিদিন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রত্যাশার কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত একটি সংবাদপত্রের নাম। আমি এ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই এর নিয়মিত পাঠক। এ ধরনের জনবহুল পত্রিকাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি মুক্ত গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার এবং এর পাঠকদের শুভেচ্ছা জানাই। একই সঙ্গে এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।’ তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম ছাড়া সভ্যতা চলে না, গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র চলে না, গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা জনগণ চর্চা করতে পারে না। আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে দায়িত্বশীলতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই।’ গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ড আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব, আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে আরও স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করা হবে। দেশে জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাষ্ট্রে জবাবদিহি থাকলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এমন পরিস্থিতিতে পড়ত না। আমরা জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতাশীল মহল বারবার গণমাধ্যমকে তার নিয়ন্ত্রিত একটি যন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। তবে গত ১৭ বছরে সাংবাদিকরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে লড়াই করেছেন এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে এবং ৩১ দফার মধ্যে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি-গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করাই হবে আমাদের কাজ। আমরা সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবারও সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘দেশের জনপ্রিয় বাংলাদেশ প্রতিদিন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দেশ ও জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে যাবে বলে প্রত্যাশা করি।’