ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ইরানের পাল্টা আক্রমণে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান, জ্বালানি পরিবহন বিমান, চারটি রাডার স্টেশন ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলায় প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, জ্বালানি ট্যাংকার ও বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের খারগ দ্বীপের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আড়াই হাজার স্থলসেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধের ১৫তম দিনে গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি, বাহরাইন ও কুয়েতের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর টানা কয়েক দফা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি বলেন, ‘হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে আবুধাবির আল-দাফরা এবং বাহরাইনের শেখ ইসা রয়েছে। এ হামলায় প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান এবং যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সংরক্ষণের ট্যাংক নিশানা করা হয়েছিল। পাশাপাশি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে।’ এএফপির খবরে বলা হয়, একটি ড্রোন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে। দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা, সঙ্গে রয়েছে ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনার একটি দল মোতায়েন করা হচ্ছে। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত নিজেদের ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন যাত্রাপথে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। এ যুদ্ধজাহাজ থেকেই মেরিন সেনারা সরাসরি রণক্ষেত্রে নামবেন। সংকট মোকাবিলা কিংবা ইরানের কোনো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে। মূলত এ মেরিন সেনারাই হতে যাচ্ছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে মোতায়েন হওয়া প্রথম মার্কিন স্থলসেনা।
মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি ও দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম’ থেকে শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পটি ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস’ পরিচালনা করে।
প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করতে ইরানের প্রতি হামাসের আহ্বান : প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। গতকাল বিবৃতিতে হামাস বলেছে, আন্তর্জাতিক রীতি ও আইন অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে এ আগ্রাসনের (ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা) জবাব দেওয়ার অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির রয়েছে। তবে হামাস ইরানের ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকে।