মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ এ আবেদন করেন।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মঈনউদ্দীন চৌধুরী আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারসংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে আসামিরা অতিরিক্ত টাকা নেন। তাঁরা রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতিসাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করেন। অবৈধভাবে আদায়কৃত এ অর্থ ছদ্মাবৃত্ত, হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, তৎসহ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ মামলায় জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো বিশেষ প্রয়োজন। এর আগে ২২ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাঁকে আত্মসাৎ ও মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তাঁর মেয়ে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের তিন সহযোগীর সম্পদের হিসাব তলব করার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য আদেশ জারি করা হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী তলব করা হচ্ছে, তাঁরা হলেন সাবেক এমপি ও ফাইভএম ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তাঁর মেয়ে এবং ফাইভএম ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার তাসনিয়া মাসুদ, ফাইভএম ইন্টারন্যাশনালের অংশীদার নূর মোহাম্মদ আবদুল মুকিত ও মহবুবা আফতাব সাথি।