নির্বাচিত নতুন সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের মধ্যে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওসমান হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো দ্রুত শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের থেকে আরও বেশি ডিজেল ও সার আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তিন দিনের ভারত সফর শেষে আজ সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিশাসে ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে রওনা দেবেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হরদীপ পুরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও একটি বৈঠক করে। আলোচনাগুলোতে দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অগ্রসর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ সময় উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্যনির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে, যা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মান এবং স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনরায় জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খলিলুর রহমানের সঙ্গে এস জয়শঙ্করের বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানান, গতকাল সকালে ভারতের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের অনাবাসি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে হাইকমিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন ড. খলিলুর রহমান ও হুমায়ুন কবির।
বিজেপি নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি : গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে বিজেপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ড. বিজয় চৌথালিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি শুভেচ্ছা চিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন। চিঠিতে বিজেপি সভাপতি নীতীন নবীনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।