চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে প্রথম মৃত্যুবরণ করা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে মামলার বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায় ঘোষণার সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহাম্মদ, তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আসামি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরীফুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো; আমির হোসেন, সুজন চন্দ্র রায় ও আনোয়ার পারভেজ আপেলের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু উপস্থিত ছিলেন। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুপুর পৌনে ১২টায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে কাঠগড়ায় হাজির করা হয় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে। কানায় কানায় পূর্ণ এজলাসে বিচারকরা ওঠেন ১২টা ১০ মিনিটে।
রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাইদ। তিনি দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিলেন খালি হাতে। তিনি আশা করেছিলেন মানুষ তো আমার সামনে। মানুষ আমাকে আক্রমণ করবে না। কিন্তু তাঁর সামনে তো মানুষ ছিল না, অমানুষ ছিল, সেটা উনি দেখতে পারেন নাই, বুঝতে পারেন নাই। চেয়ারম্যান বলেন, এই মামলায় ৩০ জন আসামি আর ২৫ জন সাক্ষী। রায়টা আমরা যতদূর সম্ভব শর্টকাট করে নিয়ে আসছি। সারসংক্ষেপ বলতে যা বোঝা যায়, সেগুলো পড়ব আপনাদের সামনে।
এরপর ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও মামলার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। এরপর প্রথম সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ মামলার অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণসহ বিচারিক ধারাবাহিকতা, বিচারের আইনি ভিত্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। পূর্ণাঙ্গ রায়টি অর্ধসহস্রাধিক পৃষ্ঠার উল্লেখ করেন এই বিচারক। সবশেষে আসামিদের সাজা ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সাজা ঘোষণার আগে চেয়ারম্যান বলেন, ‘মামলার জাজমেন্ট (রায়) সম্পর্কে আপনারা একটা আইডিয়া (ধারণা) পাইছেন। সব ইংরেজিতে লিখতে হয়। যেহেতু এটা ইন্টারনেশনাল কোর্ট (আন্তর্জাতিক আদালত), সুতরাং তার (রায়ে) ল্যাঙ্গুয়েজ হবে ইন্টারনেশনাল ল্যাঙ্গুয়েজে। পুরো রায়টা ইংরেজিতে। তবে রায়ের অপারেটিভ পার্ট (কার্যকরী অংশ বা সাজার অংশ) অনুবাদ করে বাংলায় নিয়ে আসছি, যাতে সবাই বুঝতে পারেন।’ এরপর সাজা ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। সবশেষে তিনি বিচারে সহযোগিতা করার জন্য প্রসিকিউশন, আসামিপক্ষ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
রায়ে কার কী সাজা : এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট আসামি ৩০ জন। তাদের মধ্যে ২৪ জনই পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম নয়ন ও আরএমপির সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায় মাধব। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজনই পলাতক। ১০ বছর কারাদণ্ড হয়েছে পাঁচ আসামির। তারা হলেন বোরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ বাচ্চু, আরএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই পলাতক।
পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নয় আসামিকে। তারা হলেন আরএমপির সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন টিটু, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী মাহাবুবার রহমান বাবু এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ রংপুর শাখার সভাপতি সারোয়াত হোসেন চন্দন। এই নয় আসামির মধ্যে শরীফুল ইসলাম, রাফিউল হাসান রাসেল, এমরান চৌধুরী আকাশ গ্রেপ্তার আছেন।
তিন বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে ১০ আসামিকে। তারা হলেন বেরোবির সাবেক সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবির এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, কে এম আমির হোসেন আমু ও নিরাপত্তাপ্রহরী নূর আলম মিয়া। এ ছাড়া আসামি বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেলকে কয়েকটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ আসামির সাজা নিয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তার হাজতবাসের সময় কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে বিবেচনায় তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হলো। সাজা ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আরোপিত সব সাজা যুগপৎভাবে (একসঙ্গে) চলতে থাকবে।’
আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে-মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি : রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল শুরু করেন সাজাপ্রাপ্ত গ্রেপ্তার আসামিরা। সাজা ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে বের করার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমি পুলিশের চাকরি করি, আমি হুকুমের গোলাম। আমাকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো? আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি এ রায় মানি না।’ এরপর এজলাস থেকে বের করার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী আকাশ। এ সময় গ্রেপ্তার আরেক আসামিকে বলতে শোনা যায়, আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।
পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আপিলের সিদ্ধান্ত-চিফ প্রসিকিউটর : রায় ঘোষণার পরপরই ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম কোনো মামলার রায় হলো। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই আমাদের এনটিভির সেই সাংবাদিক...মঈনুল হক। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার ক্যামেরাম্যানসহ এই ভিডিও ধারণ করার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি সারা দুনিয়ার মানুষ, সারা পৃথিবী দেখতে পেয়েছিল।’
রায়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ওখানে আসলে দুজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনজনের যাবজ্জীবন হয়েছে। আমাদের যে ধরনের চার্জ ছিল তাদের ভূমিকা অনুযায়ী সেই সাজাগুলো হয়েছে বলে মনে হয়। তারপরও আমরা পূর্ণাঙ্গ জাজমেন্ট পাওয়ার পর সেটা পর্যালোচনা করে যদি আমাদের কাছে মনে হয়, যেসব চার্জ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে। সেগুলো পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট বলতে আমরা তো ৩০ জনকে আসামি করেছিলাম। ৩০ জনকেই দণ্ডিত করা হয়েছে। কেউ কিন্তু এ মামলায় খালাস পায়নি। ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারপতিগণ তাঁরা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হয়তো সেই সেনটেন্সটা দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেব আমরা আপিল করব কি না।’
আপিলে খালাসের আশা আসামিপক্ষের : রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিন আসামির পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। মামলার গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে উল্লেখ করে আপিলে নতুনভাবে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আসামি আনোয়ার পারভেজ, এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের পক্ষে লড়েছেন আইনজীবী দুলু। তিনি বলেন, মামলায় আমরা লিখিত ও মৌখিক যুক্তিতর্কে যেসব ভিত্তিতে আসামিদের খালাস চেয়েছিলাম সেসব বিষয় পরিষ্কার হয়নি। কারণ আজ ‘সাবস্ট্যান্স অব ফাইন্ডিং’ এবং ‘অপারেটিভ পার্ট অব দ্য জাজমেন্ট’ ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থাৎ রায়ের ডিগ্রি ও শাস্তির অংশ শুনেছি আমরা। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আপিল করব। আশা করি সেখানে আমার আসামিরা খালাস পাবেন।
রায়ে সংক্ষুব্ধ আবু সাঈদের পরিবার : তবে রায়ে সংক্ষুব্ধ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। রায় শুনতে সকালেই ট্রাইব্যুনালে আসেন আবু সাঈদের বাবা ও এ মামলার প্রথম সাক্ষী মকবুল হোসেন এবং আবু সাঈদের দুই ভাই রমজান আলী ও আবু হোসেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবু হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে দুজন আবু সাঈদকে গুলি করেছিল তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা গুলি করেছিল তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এটা করেছেন। অথচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অসন্তুষ্টি আছে।’
মামলার বৃত্তান্ত : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কোটা সংস্কার আন্দোলন আরও তীব্র হয়। এক পর্যায়ে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনে ওই বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের।
গত বছর ১৩ জানুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসে অভিযোগ দেন শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। গত বছর ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ প্রতিবেদনে মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। প্রতিবেদন দাখিলের পর তা ৩০ জুন আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছর ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি নিয়ে গত বছর ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ ২৫ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। এরপর গতকাল রায় ঘোষণা করা হলো।