আগামী মঙ্গলবার শান্তি আলোচনায় বসার আগে ইসরায়েলি বিমান লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। গতকাল এবং এর আগের দিনের এসব হামলায় লেবাননী নিরাপত্তা সদস্যসহ ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলার ঘটনাকে শান্তি আলোচনার উদ্যোগকে ব্যাহত করা এবং অব্যাহতভাবে ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সূত্র : এনএনএ, রয়টার্স, আলজাজিরা, বিবিসি।
লেবানন বলেছে, গতকাল ভোরে দক্ষিণ লেবাননে পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নাবাতিয়েহ জেলার কফর সির শহরে এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন প্যারামেডিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। একই জেলার জেফতা শহরে আরেক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের একজন সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। এ ছাড়া তৌল শহরে আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এর আগে শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবানিজ নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ সদস্য নিহত হন।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানও বলেছে, ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে অভিযান চালিয়েই যাচ্ছে ইসরায়েল। এটা রীতিমতো ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, লেবানন যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। এদিকে আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনার বিষয়ে জানা গেছে, লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলবে না ইসরায়েল। আলোচনায় ‘হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি’ নিয়েও কোনো আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেছেন, লেবানন সরকারের সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা’ শুরু করতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। লেইটার বলেন, ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে আলোচনা করতে ইসরায়েল অস্বীকার করেছে। তারা (হিজবুল্লাহ) ক্রমাগত ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনের পথে তারাই প্রধান বাধা। ইসরায়েল স্পষ্ট করে বলেছে, ইসলামাবাদে শনিবার শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা হবে, তার আওতায় লেবানন পড়বে না।
অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই কেবলমাত্র ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে লেবানন। জানা গেছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে এ বৈঠকের উদ্যোগটি নিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। বেঠকের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করা। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটারের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এটিকে দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও অংশ নেন।
এদিকে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম আল-মানার টিভিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন, তার দল ‘শেষনিশ্বাস’ পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে লেবানন সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর অনড় অবস্থানে মাঠপর্যায়ে সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। ফলে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠক থেকে কতটুকু সাফল্য আসবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।