গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আখতার হোসেন বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাতে আমরা একটা নোটিস পেয়েছি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে তীব্র জ্বালানিসংকট। এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। বার কাউন্সিল সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটা কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী তিন বছর পরপর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা। যদি নির্বাচন করার মতো পরিবেশ না থাকে, অর্থাৎ প্যানডেমিক বা অকওয়ার্ড, এমন কোনো ধরনের দুর্যোগ ঘটে তাহলে সেই সময়টাতে এক বছরের জন্য একটা অ্যাডহক কমিটির বিধান রয়েছে। করোনার সময়টাতে এটা করা হয়েছিল। কিন্তু সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার পর নির্বাচন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এই অ্যাডহক কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তরণের জন্য নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৯ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হলো।’
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি তখন সরকারের তরফে বলা হয়, দেশে জ্বালানিসংকট নেই। আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে। মূল ইস্যুটা কী?’ জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই বার কাউন্সিলের নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বার কাউন্সিল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।’ তিনি বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টেনে এনে বললেন শুধু একটা কারণে। সেই প্রেস রিলিজ আমিও পড়েছি। উনি যে জিনিসটা বলেননি সেটা হলো ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ এসেছে। তাদের ওখানে এখন নির্বাচন চলছে, তাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া সমুন্নত ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বা কাউন্সিলের নির্বাচনটা পেছানোর জন্য বলেছেন। বার এসব অ্যাসোসিয়েশনের সেই অনুরোধটাও রক্ষা করেছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বার কাউন্সিল নিজস্ব মেধা প্রজ্ঞা স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণে সেখানে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’