জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতি মনে করে আপনারা (বিএনপি) স্পষ্ট ভুলের মধ্যে আছেন, ভুল থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে গণভোটের রায়কে মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন। আমরা আপনাদের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব। রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের অধ্যাদেশও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার কমিশন পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, গণতান্ত্রিক যত প্রতিষ্ঠান আছে, সবগুলো ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের মতো একটি প্রতিষ্ঠানেও লোভ সামলাতে পারেনি। সেখানে কেউ বাপের তালিকায়, কেউ স্বামীর তালিকায়, কেউ অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল আর তিনি ছিলেন ভাইয়ের তালিকায়। এভাবে ক্রিকেট বোর্ডটিকেও পর্যন্ত দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে।
সিভিল প্রশাসনে যে লোকগুলো সৎ ও দক্ষ, তাদের ডাম্পিং প্লেসে ওএসডি করা হচ্ছে অথবা কোনো খারাপ জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মেধা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। সবদিকেই একটি মহা নৈরাজ্য তৈরি করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরও ভয়াবহ হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুত করে চোরাই পথে বিক্রি করছে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণ করা হলেও এসব কার্যক্রমে দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এক বিধবাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজির হার দিন দিন বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত চাঁদার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার দুর্নীতি দমন করার কথা বললেও বাস্তবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং সমাজের সৎ মানুষদের নীরব করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।