গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানিসংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গতকাল রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। এ সময় পানির ট্যাংকি মোড়ে মিছিলপূর্ব এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ জনগণ দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন আপনাদের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনবে না। জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না। গণমিছিল কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সহসভাপতি মেজর (অব.) ডা. আবদুল ওহাব মিনার, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামি পার্টির মুসাবিন এজাহার এবং খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।
সরকারের উদ্দেশে এ টি এম আজহার বলেন, আপনারা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কোন সংবিধানের বলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন? একটি আইন মানবেন, আর একটি আপনাদের বিরুদ্ধে গেলে মানবেন না-এটি জনগণ মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশের মানুষ ১৬ বছর আন্দোলন করে বিদায় করেছে। আপনারা যদি মনে করেন পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমন করবেন, তবে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে রাখতে হবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাউকে আজীবন ক্ষমতায় রাখে না। আওয়ামী লীগ ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন সংকট নেই, অথচ মানুষ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সংকট না থাকলে স্কুল ও সরকারি কর্মকাণ্ড কেন কমাতে হলো? জনগণের রোষানলে পড়লে আপনারা সব বুঝতে পারবেন।