হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে আবারও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। ইরানি বাহিনীর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। এ নিয়ে পর পর তিন দফা বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ারটির হরমুজ পাড়ি দেওয়ার মিশন মুখ থুবড়ে পড়ল। প্রণালি পার হতে না পেরে এটি পূর্বের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে গেছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে ইরান হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর সারবোঝাই বাণিজ্যিক জাহাজটি রাত ৯টার দিকে মিনা সাকার থেকে নোঙর তোলে। রওনা দেয় হরমুজ পার হওয়ার উদ্দেশ্যে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই থেমে যেতে হয়েছে। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরানি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইরানি ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) অনুমতি ছাড়া কেউ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া আরও কয়েকটি জাহাজ সরু জলপথটি পার হওয়ার চেষ্টা করে ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় পিছু হটে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, আরও ২০-৩০টি জাহাজের সঙ্গে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ইরান নৌবাহিনী অনুমতি না থাকার কথা জানায়। এরপর জাহাজটি পেছনে গিয়ে মিনা সাকার-এ নোঙর করে ইরানি বাহিনীর ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায় আছে। মাহমুদুল মালেক আরও জানান, বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে শিগগিরই ইরানের অনুমতি পাওয়া যাবে। জানা গেছে, কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে যায় জাহাজটি। এর পর দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়। গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজের পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর জাহাজটি প্রথমবার হরমুজ পাড়ি দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আতঙ্কে শারজাহ আউটারে ফিরে যায়। গত ১০ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে দ্বিতীয়বার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। হরমুজ প্রণালি পার হতে পারলে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরে যাওয়ার কথা।