বাংলাদেশের পক্ষে চলমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) স্থগিত করেছে এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এটা নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলমান।
ওয়াশিংটনে চলমান বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের স্প্রিং মিটিং-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমে প্রচারিত এই খবরকে নাকচ করে দেন। পরে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতেও এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান। সেদিন সকালে প্রথম বৈঠকটি আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ও তাঁর দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বিকালে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্ক ও তাঁর টিমের সঙ্গে দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে বলে গণমাধ্যমে যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ অসত্য’। বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনকি আগের দিন আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, বৈঠকগুলোতেও এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং আলোচনাগুলো অত্যন্ত ‘ইতিবাচক ও প্রাণবন্ত’ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা যায়, বৈঠক চলাকালে নবনির্বাচিত সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করে উভয় পক্ষ। অধিকাংশ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হলেও কিছু ক্ষেত্রে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং সংলাপের মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।