জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর শরিয়াহভিত্তিক ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। গতকাল রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তাঁরা সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিচারও দাবি করেছেন। কর্মসূচি থেকে বক্তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। এক. অবিলম্বে সব চাকরিচ্যুত কর্মীকে স্বপদে বহাল করতে হবে। দুই. বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। তিন. ভবিষ্যতে যেন কোনো পেশাজীবী এভাবে বৈষম্যের শিকার না হন, তার আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মীরা অংশ নেন। এমন বরখাস্ত কর্মকর্তার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। এঁদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলের। আন্দোলনকারীরা জানান, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে কয়েক হাজার পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাঁরা চাকরি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি পূর্ণ সুযোগসুবিধা দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিচার দাবি করেন। তাঁরা ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণও দাবি করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই আমাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। আমরা আমাদের রুটিরুজির অধিকার ফেরত চাই।’ মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো থেকে তাদের অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মতিঝিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানা গেছে, গত রাতে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। আজ তাঁরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে তাঁরা চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।
ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পাল্টা কর্মসূচি : ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মানববন্ধন কর্মসূচির পরপরই ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে আরেকটি দল সেখানে পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করে। পাল্টা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা বন্ধ করো’, ‘ব্যাংক দখলের কালো আইন বাতিল করো’ এবং ‘এস আলম নো মোর’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নুরুন নবী পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।