‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেনাকাটার কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
গতকাল জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. মনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সংসদের কেনাকাটায় হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ক্রয়কার্য সম্পর্কে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে অচিরেই একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। গতকাল সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে রিপোর্টটি নিয়ে আলোচনার জন্য ফ্লোর চাইলে স্পিকার তা দেননি। এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মালামাল পরিবর্তন করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের রিপোর্টে বলা হয়, মাত্র ৪ হাজার টাকার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। দামি ব্র্যান্ডের নাম লেখা থাকলেও দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের ব্যাগ। লোগো লাগানো হয়েছে আলাদাভাবে। একইভাবে একটি ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডারের দাম নেওয়া হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। আর ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ডিজিটাল স্টিল এসএলআর ক্যামেরার বডির দাম নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরনের চারটি ক্যামেরার বডি দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়। অবিশ্বাস্য হলেও এমন হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে জাতীয় সংসদে। যেখানে প্রায় প্রতিদিন দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সময় ছবি তোলার জন্য অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে এ কেনাকাটার কাজ শেষ করা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট আইটেম সরবরাহের নির্দেশনা থাকলেও মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই সরবরাহ করা হয়। আর এসব কিছু নেপথ্যে থেকে তত্ত্বাবধান করেছেন সংসদ সচিবালয় থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া সচিব কানিজ মাওলা। কাগজ-কলমে সব নিয়ম রক্ষা করেই রীতিমতো হরিলুট করা হয়েছে সংসদ সচিবালয়ের প্রথম কেনাকাটায়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এটাই সংসদ সচিবালয়ের প্রথম কেনাকাটা বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
১২ মার্চ সংসদের যাত্রা হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে কেনার আদেশ দেওয়া হয় ২৫ মার্চ। আর সরবরাহ করা হয় ১৫ এপ্রিল।