জ্বালানি তেলসহ বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি জানতে চান, দীর্ঘদিন ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের ওপরে। এ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না? জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্য অত্যন্ত মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, তা আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে তা অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকায় যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালন-প্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়। পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়। সরকারি দলের সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতিমালা মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করছে এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে এর প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে বাহ্যিক ধাক্কা অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে না পারে। সরবরাহ ব্যয় কমানোকে একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বর্তমান বিশ্বে ২১টি দেশে বাংলাদেশের ২৪টি বাণিজ্যিক উইং রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রাচ্য, দূরপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক জোট ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কৌশলগত ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) গঠনে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে শুল্ক হ্রাস, অশুদ্ধ বাধা কমানো, বাজার প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করা হবে, যাতে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে এগিয়ে যায়।