যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তা সংশোধনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছেমতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বাড়তি শুল্কের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারস্পরিক শুল্ক (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) চুক্তি সই করে। এরপর থেকে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ লংঘিত হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বক্তৃতা-বিবৃতিতে জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে। প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।