বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি সফটওয়্যার প্রকল্পের টেন্ডারে মূল্যায়ন কমিটির নথি টেম্পারিং করে অযোগ্য দুই প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল্যায়নের কম্পিউটারাইজড কপিতে হাতে কলমে পরিবর্তনের চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র নিজেদের পছন্দের দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে এ কারসাজি করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মালিকানাধীন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) এবং আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স। বিইআরসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ১৫ এপ্রিল প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচনায় সাতটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় ছিল ইজেনারেশন পিএলসি, সিএনএস, সিম্যাক অ্যান্ড প্যারালাক্সলজিক জেভি, মাইসফট হেভেন (বিডি) লিমিটেড, জেভি অব সিবিপিও অ্যান্ড এইম গ্লোবাল, সফটবিডি লিমিটেড জেভি উইথ অকটোপাস কমিউনিকেশন লিমিটেড এবং আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স সফটওয়্যার (বাংলাদেশ) লিমিটেড অ্যান্ড টেকনো মল ক্রিয়েশন লিমিটেড জেভি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ১১টি সূচকের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে মূল্যায়ন কমিটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন তৈরি করে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান একটি ক্ষেত্রেও শূন্য নম্বর পেলে সেটিকে অযোগ্য বিবেচনা করার কথা। কিন্তু নথিপত্রে দেখা গেছে, আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স ও সিএনএসের মূল্যায়নে পরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স তাদের ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) নথিতে বিশেষজ্ঞদের জীবনবৃত্তান্তে স্বাক্ষর ও ছবি সংযুক্ত করেনি। দরপত্রের শর্তে বলা ছিল, স্বাক্ষর ও ছবি ছাড়া জীবনবৃত্তান্ত জমা দিলে আবেদন সরাসরি বাতিল হবে। একই কারণে অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদ পড়লেও আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্সের ক্ষেত্রে সেই শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দলের সদস্যদের কম্পিউটার সায়েন্স বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সদস্যের সেই যোগ্যতা ছিল না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ‘এন্টারপ্রাইজ সার্ভিস বাস’ (ইএসবি) তৈরির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার তৈরির অভিজ্ঞতার পরিবর্তে তাদের অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ ছিল বাজেট সিস্টেমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মূল্যায়ন কমিটির মূল প্রতিবেদনে আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স ও সিএনএস দুই প্রতিষ্ঠানকেই অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে নথিতে পরিবর্তন এনে তাদের যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহকারী সিস্টেম অ্যানালিস্ট মাকসুদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এসব বিষয়ে জানার আপনার কোনো অধিকার নেই।’ মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও বিইআরসির পরিচালক (বিদ্যুৎ) রেজাউল করিম খান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় সব তথ্য পাওয়া যায় না। পরে রিভিউতে কিছু বিষয় যুক্ত হয়। তবে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা এখন বলতে পারব না। সিএনএসের বিরুদ্ধে আগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।