ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন দল দুুটির নেতারা। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ি কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁরা এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও একই অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনারা মনঃক্ষুণ্ন হতে পারেন। আমরা কোনো ডিজাইন নিয়ে কাজ করিনি। লক্ষ্য ছিল, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের। আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে দেখছি, বিভিন্ন দল থেকে অলরেডি মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে। এটা আমার জন্য চিন্তার, আমার কপালে ভাঁজ পড়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয় না, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দলগুলোর উচিত হবে নিজেরা বসে ফয়সালা করা; আমাদের সহায়তা থাকবে। তিনি বলেন, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, সব ধরনের নির্বাচনই ভালো করতে হবে। ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা দরকার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘পূর্ণ সহায়তার’ কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সামনে আসছে। প্রয়োজনীয় আইন-বিধি সংস্কার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি রাজনৈতিক দলের নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্ভব হয় না। আমরাও দলের সহযোগিতা চাই। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে সহিংসতার যে ইতিহাস, সে কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতে দেখা গেছে অনেক মার্ডার হয়, একই পরিবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, খুব স্বল্প ব্যবধানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টারা এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার যে আভাস দিয়েছেন সে সম্পর্কে সিইসি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন কবে হবে তা এখনো ফাইনাল হয়নি। নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হবে না, আমাদের কিছু বিধিবিধান সংস্কার করতে হবে। এ নিয়ে কাজ শেষ করে আমরা সরকারের সঙ্গে বসব। সরকার তো ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের মধ্যে শুরু করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ পুরো কমিশন, জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সাবেক এমপি ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন (এমপি), এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেস) চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ ও সংস্থাটির সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন। অনুষ্ঠানে আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল, বিদায়ি সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলাসহ কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল নতুন নির্বাচিত কমিটি এ অনুষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াত-এনসিপির প্রশ্ন : একই অনুষ্ঠানে গত সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতারা। নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভোটে অনেক দল অংশ নিলেও মোটা দাগে এ নির্বাচন পুরোপুরি সন্তোষজনক বলা যাবে না। তিনি বলেন, ওপরে সব ঠিকঠাক, ভিতরে সদরঘাট। ভিতরে যে কাজটা হয়েছে, আগেও বলেছি সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? প্রক্রিয়ার ভিতরে সে স্বচ্ছতা মেইনটেন হয়নি। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এ ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, ব্যালট পেপারে বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বক্সের বাইরে যদি সিল পড়ে, সেটা কাউন্ট হবে। এর ‘বিচার’ দেশেই হবে মন্তব্য করে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এ নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, এর বিচার বাংলার মাটিতে আমরা করব। আরেকটা গণ অভ্যুত্থান হলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে হাত দেব, আপাদমস্তক পরিবর্তন করব, ফার্স্ট টার্গেট হবে এটা। নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর অভিযোগ সম্পর্কে সিইসি বলেন, পাটোয়ারী যা অনুভব করেছেন, যা বিশ্বাস করেছেন, তিনি তা বলেছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ বক্তব্যে আহত হইনি। সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, নির্বাচন কেমন হয়েছে, এর বিচারের দায়িত্ব দেশবাসীর। আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি দেখেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে, কারণ আমরা তো ফেরেশতা নই। আমরা কোনো ডিজাইন নিয়ে কাজ করিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করেছি।