মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে খুনাখুনি ও সহিংসতার ধরনে চরম নৃশংসতা বাড়ছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, লাশ টুকরো করা কিংবা পারিবারিক সহিংসতায় সন্তান হত্যার মতো ঘটনাগুলো সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের চরম চিত্র। আইনের শাসনের অভাবের কারণে মানুষের নৈতিক ও মানসিক চেতনায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোনো মামলার নিষ্পত্তি যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তাহলে বিচার কার্যকারিতা হারায়। এ ছাড়া বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে অপরাধ ঘটলেও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং অপরাধীরা পার পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় বা মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে। প্রশাসনের রাজনৈতিকীকরণের কারণে অনেক সময় পেশাদারভাবে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই সমাজে আস্থা ফিরবে এবং সহিংসতা কমবে।