প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারই পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর নেতৃত্বেই তিস্তা নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তাই কাজ যদি কেউ করে থাকে, সেটা বিএনপিই করেছে।
গতকাল গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন, কয়েক দিন আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ তৈরি করব। সীমান্তের ওপারে ব্যারাজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। যার কারণে খরা মৌসুমে আমরা পানি কম পাচ্ছি। এ ব্যারাজটি আমরা এজন্য করতে চাচ্ছি, যাতে সব মৌসুমে আমাদের দেশের মানুষ বা কৃষক পানি পায়। তিনি বলেন, ‘আরেকটি ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, ফারাক্কা বাঁধ হওয়ায় সমুদ্রের পানি দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকছে। এতে সুন্দরবনসহ ওইসব অঞ্চলে লবণাক্ত পানি বেশি পরিমাণে চলে আসায় গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারাজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখব। পরে খরা মৌসুমে সেটি কাজে লাগবে।’
আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন জানুয়ারিতেও শীত কম লাগে। আমার মনে আছে, আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন ২৬ মার্চের স্কুলে প্রোগ্রাম হতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। প্রোগ্রামে যখন রিহার্সেল দিতাম স্কুলে, তখন সোয়েটার পরতে হতো।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা যে জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছি খুব সম্ভবত ২০-২৫ বছর আগে এখানে মাটি ছিল না। পানি ছিল। এর আশপাশের জায়গায় নিশ্চয়ই অনেক গাছপালা ছিল। আজকে তেমন গাছপালা নেই। অনেক বাড়িঘর হয়েছে। আমরা এখানে একটি ভিডিও দেখলাম। এতে খুব সম্ভবত একটা ছোট্ট দৃশ্য দেখেছি। কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা যেখানে থাকে খুব সম্ভব সেই জায়গাটা ভিডিওতে দেখিয়েছে। সেখানে প্রায় ১৩ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা আছে। কক্সবাজারের টেকনাফের দিকে আমি গিয়েছিলাম ২০০৫-০৬ সালের দিকে। তখন দেখেছিলাম সেই জায়গাগুলো গাছে ভরা। সেখানে এখন রোহিঙ্গাদের বাসস্থান তৈরি করায় সেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম কক্সবাজার থেকে সৈকতের পাশ দিয়ে উখিয়া পর্যন্ত রাস্তা করা হচ্ছে। রোডের ডিজাইনের কারণে প্রায় ৩ হাজার গাছ কেটে ফেলতে হবে। তা দেখার পর এ রাস্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীকে ফোন করে নিউজটা পাঠালাম। তাকে বলে দিলাম ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে গাছ না কেটে কাজ করতে।’ তিনি বলেন, গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ছোটবেলায় দেখেছি মাটির নিচে ২০-২৫ ফুট গেলেই পানি বের হতো। এখন শুনেছি সেখানে পানি পেতে মাটির প্রায় ৬০০-৭০০ ফুট গভীরে যেতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ২০ কোটি মানুষের ফসল উৎপাদনের জন্য আমাদের কৃষকরা গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি টেনে তুলছেন। ফলে নিচে থেকে আস্তে আস্তে পানিশূন্য হয়ে যাচ্ছে। খুব স্বাভাবিক নিচটা যখন শূন্য হবে ওপর থেকে সেটি ধসে পড়বে।
তাই আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করেছি, আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। আমরা সরকার গঠন করেছি আলহামদুলিল্লাহ এবং আমরা আমাদের সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। এ খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ খাল খননের সঙ্গে কৃষি জড়িত। তাই যেভাবেই হোক আমাদেরকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে সামান্য দুর্যোগ হলেই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফসল হানি হয়। গবাদি পশুর ক্ষতি হয়। এজন্য আজকের এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দুটি। এখানে এ প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হওয়ার পরে আমাদের আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হচ্ছে সেটি সম্পর্কে গবেষণা করা। একই সময়ে কীভাবে এ বিষয়গুলোকে আমরা মোকাবিলা করব সেটি ভূমিকম্প হোক বা জলোচ্ছ্বাস, সেটা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ সেখান থেকে জীবন ও সম্পদ সুরক্ষার কাজে নিয়োজিতদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।’ তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আমরা বন্ধ করতে পারব না। সেটিকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা দুর্যোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারি। আজকে এ অনুষ্ঠানের একটি শপথ হওয়া উচিত, আমরা শুধু মানুষকে সচেতনই করব না নিজেরাও সচেতন হব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্পদ সীমিত। আমরা যদি সম্পদকে রক্ষা করে সঠিকভাবে দেশ ও মানুষের জন্য ব্যবহার করতে পারি, তাহলে ধীরে ধীরে একটি উন্নত দেশের মতো গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু সম্পদ যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মানুষের কষ্টই বাড়বে। মানুষজন দুর্ভোগের শিকার হবে।’
এর আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। সমাবেশের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নির্মিত ভিডিও তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেলা ২টায় গাজীপুরের ধরপাড়ার সাতাইশ চৌরাস্তায় এ ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় একটি স্মারক বৃক্ষরোপণও করেন তিনি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতাইশ চৌরাস্তার ধরপাড়া এলাকায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই ইনস্টিটিউট নির্মিত হবে। এখানে প্রশাসনিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আবাসিক ভবনও থাকবে। এই ইনস্টিটিউট দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলার সামান্য ঘাটতিও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো দেশেই যে কোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।’ তিনি বলেন, ‘পেশাদারত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বাহিনীটি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি, এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। এ কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নিরাপত্তা প্রদান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে আনসার-ভিডিপির সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বাহিনী কেবল নিরাপত্তা রক্ষা নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে-বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এ বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এ বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’ ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদের স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন।
এর আগে সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।