Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:২৬

গহনায় গর্জিয়াস

গহনায় গর্জিয়াস
► মডেল : সিনি স্নিগ্ধা ► অর্নামেন্টস : স্পার্কেল ► আউটফিট : জেন্টল পার্ক ► মেকওভার : শোভন মেকওভার ► ফ্যাশন ধ : শোভন সাহা ► কৃতজ্ঞতা : বিহাইভ স্টুডিও ► ছবি : নেওয়াজ রাহুল

সাধ্য থাকলে গহনা কেনা যায়। তবে গর্জিয়াস লুক পেতে তার ব্যবহার করতে হয় বুঝেশুনে। সময় বুঝে পোশাক আর পোশাক বুঝে গহনার ব্যবহার আপনাকে দেবে বাড়তি সৌন্দর্য। আপনার বাক্সে থাকা গহনার ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন - তানিয়া তুষ্টি

 

ছিমছাম গেটআপ স্টাইলের এই যুগে অনেকেই ভাবতে পারেন গহনার ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। এই যুগে এসেও বরং বেড়েছে গহনার ব্যবহার ও রকমফের। সোনা, হীরা, মুক্তা, রুপা, গোল্ড প্লেটেড, পাথর, অ্যান্টিক মেটাল, প্লাস্টিকসহ নানা উপকরণে তৈরি হালকা-ভারী এসব গহনার কদর রয়েছে এই যুগে। আবার হালকা স্টাইলিশ ডিজাইনের গহনাও নিয়মিত ব্যবহারের জন্য কিনছে অনেকে। বেনারসি, গর্জিয়াস, থ্রিপিস, লেহেঙ্গাসহ বিশেষ কিছু পোশাক মানেই ভারী গহনার ব্যবহার। আজকাল খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পুরনো দিনের ভারী ডিজাইনের গহনা। মেটালে তৈরি অ্যান্টিক গহনাগুলো মন কেড়ে নিচ্ছে তরুণীদের। ওয়েস্টার্ন অথবা পার্টি গেটআপেও উপযোগী গহনার ব্যবহার যে কাউকে করে তুলবে গর্জিয়াস।

 

আজকাল অল্প সোনায়ও গলা ভরাট করার নেকলেস পাওয়া যায়। তবে ডিজাইনের ওপর দাম নির্ভর করে। নেকলেস সেট ছাড়াও ১৫-২০ গ্রামের মধ্যে হালকা সেট কেনা যাবে। সেক্ষেত্রে উজ্জ্বল সোনা, ম্যাট ফিনিশ বা দুইয়ের মিশ্রণ; সবরকম অপশনই পাবেন। বিয়ের সাজে ডায়মন্ড দৃষ্টিকটু দেখালেও দুই-একটি গহনা ডায়মন্ডের রাখা যায়। সেক্ষেত্রে গহনার নির্দিষ্ট অংশে ডায়মন্ডের ব্যবহারে সাজাতে পারেন আপনার পছন্দের ডিজাইন। এ ছাড়া আজকাল ব্র্যান্ডে হীরার গহনার দোকানেও সুন্দর হীরার সেট কিনতে পাওয়া যায়। এখন গহনার ডিজাইন ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ করে তোলার খাতিরে ডায়মন্ড এবং সোনার ব্যবহারের সঙ্গে চলছে রাবার, প্লাস্টিক, ফেব্রিকের ডেকোরেশন।  সোনা, হীরার পাশাপাশি মুক্তার সেটও কিনে রাখতে পারেন। তবে আজকালকার বেশির ভাগ আধুনিক মেয়েদের পছন্দ হালকা, ছিমছাম, স্নিক জুয়েলারি। তাই সব গহনা ভারী না কেনাই ভালো। এগুলো এথনিক, ওয়েস্টার্ন, সবরকম পোশাকের সঙ্গে তো বটেই এমনকি বিয়ের পর অফিস বা পার্টিতেও পরে যাওয়া যাবে। সোনার গহনার পাশাপাশি বেশকিছু কস্টিউম জুয়েলারিও কিনে রাখতে পারেন। শাড়ি বা ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে রুপার গহনা পরা যায়। রুপার গহনা এখন  বেশ ট্রেন্ডি এবং স্টাইলিশ। গহনায় মুক্তা, রুপা বা দামি পাথরের কাজ দেখা যায়। দেখা যায় পুঁতির কাজও। কোনো কোনো ডিজাইন করা হয়  সোনার বর্ডার দিয়ে। চাইলে আপনি নিতে পারেন প্লাটিনামের গহনাও। এই গহনা বেশ সুন্দর ও সূক্ষ্ম হয়। মুক্তা বার বার ভোল পাল্টে আসে নতুনরূপে। মুক্তার গহনায় কনের রুচিশীলতা আর আভিজাত্য ফুটে ওঠে। আধুনিক ফ্যাশনে হোয়াইট গোল্ড বেশ জনপ্রিয়। দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। মূলত নিকেল ও প্যালাইডিয়ামের সংমিশ্রণে হোয়াইট গোল্ডের গহনা  তৈরি করা হয়। দামও একটু বেশি। বিয়েতে এখন রুপার চল না থাকলেও রুপার ওপর গোল্ডপ্লেটেড করে নিতে পারেন।

আপনার কাছে থাকা এমন গহনাও রয়েছে যা বছরে একবারও পরা হয় না। অযতেœ থেকে আস্তে আস্তে তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাই দরকার সঠিক যত্ন আত্তি।

 সোনা-হীরার গহনা সোনা পুরনো হয়ে গেলে উজ্জ্বলতা কমে যায়। অনেক সময় বার বার পলিশের কারণে সোনার গহনা স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। সোনার উজ্জ্বলতা বাড়াতে একটি পাত্রে পানি এবং একটু ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে নিন। তার মধ্যে সোনার গহনা সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে, টুথব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে নিন। এতে সোনার গহনার উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। এরপরও যদি কালচে ভাব থেকে যায়, তবে সোনার দোকানে নিয়ে পলিশ করাতে পারেন। হীরের গহনা তুলে রাখার আগে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে রাখতে হবে। হীরার গহনার যত্ন নিলে নতুনের মতো দেখায়। তবে সোনা, রুপার মতো হীরার গহনা একই বাক্সে রাখা উচিত নয়।

মুক্তার গহনা

মুক্তার গহনা ব্যবহার শেষে নরম, ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে। তবে খুব বেশি ময়লা হলে পানিতে সামান্য সাবান মিশিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। প্ল­াস্টিকের ব্যাগে মুক্তার গহনা রাখবেন না, নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রুপার গহনা

রুপার গহনা সুন্দর রাখতে বেশি কষ্ট করতে হয় না। প্রথমে গহনাটি ভালোভাবে মুছে তার ওপর ট্যালকম পাউডার লাগিয়ে শুকনা সুতি কাপড় দিয়ে ঘষে নিন। সঠিক যত্নে রুপার গহনা ভালো থাকবে দীর্ঘদিন। সোনার গহনার সঙ্গে রুপার গহনা রাখা উচিত নয়। এতে রং নষ্ট হতে পারে।

গোল্ড প্লে­ট গহনা

গোল্ড প্লে­টের অলঙ্কার ব্যবহার শেষে টিস্যু দিয়ে মুড়িয়ে যত্ন করে রাখতে হবে। গোল্ড প্লে­টের গহনা ব্যবহারের সুবিধা হচ্ছে কালো হয়ে গেলেও সোনার দোকানে নিয়ে গেলে আবার রং করিয়ে নেওয়া যায়।

পাথর ও অ্যান্টিক মেটাল গহনা

কুন্দন, পাথর ও অ্যান্টিক গহনা ভারী কুন্দন, পাথর বসানো অলঙ্কার গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে ঝকঝকে হবে। দামি পাথর বসানো গহনা পরে খেলাধুলা বা ভারী কাজ করা ঠিক নয়। অ্যান্টিকের গহনা ব্যবহারের পর লেবু নিয়ে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

শখের গহনাগুলো নিশ্চয় যেখানে সেখানে ফেলে রাখবেন না। অবশ্যই সুন্দর কোনো বাক্সে রেখে দেবেন সাজিয়ে। যেন আপনার শখগুলো তুলে রাখছেন গুছিয়ে।  আপনার শখের মূল্য বুঝে বিক্রেতারাও সাজিয়ে রাখে নানা রকম গহনার বাক্স। পুঁতি, স্টোন, ক্রিস্টাল, অ্যাম্ব্রয়ডারিসহ নানা কিছু দিয়ে নান্দনিক ডিজাইন করা হয়ে থাকে এসব গহনার বাক্স। যাতে ফুটে ওঠে আভিজাত্যের পরিচয়। গহনার সংখ্যা ও ওজনের ওপর নির্ভর করে বাক্স নির্বাচন করা যেতে পারে। গোল, চার কোনা, লম্বা, পিরামিডসহ নানা আকারের গহনার বাক্স বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। রয়েছে কয়েক পার্ট বা আলাদা ড্রয়ার বিশিষ্ট গহনার বাক্সও। গহনার জন্য কাঠের তৈরি বাক্স বেশি উপযোগী। এটি বেশ টেকসই হয়ে থাকে। তবে চামড়ার  তৈরি গহনার বাক্সের চাহিদা সাধারণভাবেই একটু বেশি। কিছু কিছু চামড়ার ওপর হাতের কারুকাজ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বাজারে প্ল­াস্টিকের তৈরি গহনার বাক্সও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের বাক্সগুলো দেখতেও বেশ শৌখিন। আর প্ল­াস্টিকের তৈরি বলে হালকাও হয়। রুচিশীল শৌখিন মানুষ বাঁশ ও বেতের তৈরি গহনার বাক্সগুলো বেছে নেন। গোলাকার, বর্গাকার, পিরামিড, লম্বাটে, দ্বিতল নানা আকারের হয়ে থাকে। রং, নকশাভেদে তৈরি বাক্সগুলো দেখতেও বেশ নান্দনিক হয়ে থাকে। একটু ভারী ধাঁচের গহনা এ ধরনের বাক্সে রাখা হয়। মাটি, পুঁতি, শামুক, ঝিনুক, কড়ি, পাট, বিডস ইত্যাদি দিয়ে তৈরি গহনা কাগজের বাক্সে ভালো থাকে। ধাতব গহনা এবং ইমিটেশনের গোল্ডেন কালার গহনা ভালো থাকে প্ল­াস্টিকের বাক্সে। তাছাড়া পাথর, অ্যান্টিক, ইমিটেশনের গোল্ডেন কালার গহনা টিস্যু পেপারে মুড়িয়ে বাক্সে রাখা উচিত। প্লাস্টিক, বাঁশ-বেতের গহনা বাক্সে খোলাও রাখা যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য