Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:১৫

গহনায় বৈচিত্র্য

গহনায় বৈচিত্র্য
► মডেল : আসপিয়া ওহি ► পোশাক : কে ক্রাফট (ইয়াংকে) ► অর্নামেন্টস : স্পার্কেল ► মেকওভার : শোভন মেকওভার ► ছবি : মনজু আলম

মেয়েদের কাছে সাজগোজ বিষয়টি অত্যন্ত শখের। আর তা নিয়ে আয়োজনেরও কোনো কমতি থাকে না। সেই সুন্দর রূপখানা যেন একঘেয়ে না হয়, তাই থাকে বৈচিত্র্য। আউটফিট, মেকওভার, এক্সেসরিজ এবং অর্নামেন্টস সব মিলিয়ে সাজগোজে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন-  তানিয়া তুষ্টি

 

মেয়েদের কাছে সাজসজ্জার বিষয়টি অত্যন্ত শখের। নিজেকে সুন্দর রূপে উপস্থাপনের জন্য তাদের আয়োজনের শেষ থাকে না। সেই সুন্দর রূপও যেন একঘেয়ে না হয়ে যায় সেজন্য থাকে নানা বৈচিত্র্য। মেকআপ কেমন হবে, পোশাক কেমন হবে, ব্যবহার্য অনুষঙ্গ কেমন হবে, সর্বোপরি পরিহিত গহনা কেমন হবে তা নিয়ে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কারণ পোশাক আর সাজসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে গহনা হতে হয় একেক সময় একেক রকম। শুধু কি তাই, উৎসব উপলক্ষেও থাকে এসব গহনার ভিন্নতর ব্যবহার। কিছু কিছু সময় তো আপনার সৌন্দর্য প্রকাশে সব সাজগোজ আর পোশাককে ছাপিয়ে পরিহিত গহনার ভূমিকা থাকে অনেক বেশি।

শীতকাল মানেই নানা রকম অনুষ্ঠানের আধিক্য। এ সময় বিয়ে, পার্টি, গেট-টুগেদার বা জন্মদিনের পার্টিতে অংশগ্রহণ করা হয় বেশি। তাছাড়া বিয়েকে কেন্দ্র করে আজকাল অনুষ্ঠান থাকে ৪-৫ রকমের। পানচিনি, গায়ে হলুদ, বিয়ে, বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠান আরও কত কি? আর এ সময় বিয়ের কনে তো সাজবেন-ই, যে সব রমণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তারাও কোনো অংশে কম যান না। ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিন্ন সাজে বাহারি গহনা যেন ভিন্নমাত্রা যোগ করে। কারণ বিয়ের সাজে ঐতিহ্য আর জমকালো দুটি ভাবই ফুটিয়ে তোলা চাই। আর সেই সাজের ষোলআনা পূর্ণ করে সোনার গহনা। সোনার গহনার মধ্যে গলায় জড়োয়া, সীতাহার, চন্দ্রহার, পাঁচনরি হার, কণ্ঠী, মতিহার, নেকলেস ইত্যাদি সবকালেই বেশ জনপ্রিয়। জড়োয়া গহনার মধ্যে জড়োয়া, নবরত্ন জড়োয়া, চিক জড়োয়া, হাঁসুলি (লম্বা সীতাহার)সহ কয়েক ধরনের জড়োয়া রয়েছে। মেয়েদের গহনার মধ্যে কানবালা, ঝুমকা, দুল, মাকড়ি চলছে। হাতের শোভা বাড়াতে কঙ্কন, বালা, বাউটি, মানতাসা ইত্যাদি পরতে পারেন। হাত ও কোমরের জন্য অতিরিক্ত আরও কিছু গহনা রয়েছে যেমন হাতের জন্য বাজু, হাতপদ্ম, কোমরের জন্য বিছা, কোমরবন্ধনী ইত্যাদি। আজকাল তো অনেকে ট্রেডিশনাল শাড়ি বা লেহাঙ্গার সঙ্গে মিলিয়ে নাকে নথ, নোলক, নাকছবি বেছে নিচ্ছেন। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আলতা রাঙা পায়ে নূপুর, ঘুঙ্গুর, মল থাকবে না তা কি হয়! চুলের সাজে জমকালো লুক আনতে খোঁপার কাঁটা, সিঁথি টিকলি, ক্লিপ, চেইন কাঁটা, ঝাপটা প্রভৃতির ব্যবহার দেখা যায় উল্লেখযোগ্য হারে। ডিজাইন দেখিয়ে  সোনা কিংবা গোল্ড প্লে­টের বানিয়ে নিতে পারেন এসব গহনা। 

সোনা ছাড়াও ডায়মন্ড কাট গহনা, গোল্ড প্লে­টেড মালা, ঝাপটা, কানের দুল প্রভৃতি পরতে পারেন এ সময়কার অনুষ্ঠানের সাজে। তিন লহরি, চার-লহরি আবার মোটা এক লহরি মালা, বড় আংটি এখন ফ্যাশন সচেতন নারীদের কাছে জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মেটালের দুল, জয়পুরি দুল, মণিপুরী দুল, ইন্ডিয়ান দুল, হংকং দুল, চায়না অর্নামেন্টসও রয়েছে অনেকের পছন্দের তালিকায়। বর্তমানে সোনার গহনার সোনালি রং ছাড়াও হোয়াইট গোল্ড এবং রোজ গোল্ডের চাহিদা বাড়ছে। সোনালি সোনার সঙ্গে দু-একটি হোয়াইট কিংবা রোজ গোল্ডের গহনা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরলে নতুনত্ব আসবে। অনুষ্ঠান উপযোগী পোশাক, সাজসজ্জা আর সঙ্গে উপযুক্ত গহনা-নইলে সৌন্দর্য বোদ্ধাদের কাছে তা একদমই মানানসই নয়। আজকালকার মেয়েরা এ বিষয়ে অনেক সচেতন। তাদের শৌখিনতায় জাঁকজমক লুক আনতে ব্যবহার করছেন ডায়মন্ডের গহনা। নারীদের কাছে এটি অত্যন্ত শৌখিন গহনা। বিয়ে, জন্মদিন কিংবা রাতের যে কোনো জমকালো পার্টিতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এসব গহনা। বর্তমানে ছোট ডায়মন্ডের গহনার প্রতি নারীদের আগ্রহ বাড়ছে। এক্ষেত্রে হীরার আংটি, কানের দুল, নাকফুল, লকেটের চাহিদাই বেশি। গর্জিয়াস ডায়মন্ডের সেট কিনতে চাইলে বেছে নিতে পারেন স্টোন ও মুক্ত সেটিং ডায়মন্ড সেট।

 

সোনার গহনায় বৈচিত্র্য আনতে ফ্যাশনে এখন পেটানো খাঁটি গিনি সোনার বদলে কিছুটা হালকা ডিজাইনের সোনার সঙ্গে পাথর, রুবি, পুঁতি, কুন্দন, মুক্তার মিশেলে তৈরি গহনা চলছে। আপনার পোশাক বা শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে গহনায় স্টোন বা পুঁতি বসিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়াও পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গোল্ডের গহনায় মিনা করিয়ে নিতে পারেন। ডায়মন্ডের গহনায় বসিয়ে নিতে পারেন জারকান, পান্না, রুবির মতো দামি পাথর। ছিমছাম ফ্যাশনে কিছুটা হালকা নকশার গহনার জনপ্রিয়তা বেশি। তবে ট্রেডিশনাল এবং ট্রেন্ডির মিশেলে তৈরি হওয়া গহনার প্রতি এখন ফ্যাশন সচেতনদের আগ্রহ বেশি। গহনার নকশায় মিসরীয় সভ্যতা, আদিবাসী নকশা বা মুঘল আমলের নকশা এখন স্টাইলিশ জুয়েলারি। ঝুমকো আর বড় ঝুলানো দুলের বেশ কদর দেখা যাচ্ছে। এখন ঝুমকো স্টাইলের দুলে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। স্টোন বসানো, মিনা করা, ডায়মন্ড কাট, ত্রিভুজাকৃতি, চৌকোনা বিভিন্ন ডিজাইনে এসেছে ঝুমকো দুলগুলো। এন্টিকের ঝুমকোর সঙ্গে পালক লাগানো ও সুতার তৈরি বড় দুল দেখা যাচ্ছে গহনার ব্র্যান্ডগুলোতে। দুলের পাশাপাশি ইমিটেশনের মালাতেও বড় ঝুলানো স্টাইলের বেশ প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। পুঁতি, সুতা, স্টোন, আর্টিফিশিয়াল পার্ল, পুঁতির সঙ্গে পশম দিয়ে তৈরি মালা, এন্টিকের ওপর মিনা করা, এন্টিকের সঙ্গে সুতার ডিজাইনে মালাগুলোই চলছে। এখনকার অনুষ্ঠানগুলোতে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি যেমন-কাতান, বেনারসি, জামদানির সঙ্গে পরতে পারেন আদি ঢঙের সোনার গহনা। শিফন, জর্জেট, সিল্ক, নেট শাড়ির সঙ্গে ভালো লাগবে ট্রেন্ডি গহনা। সুতি শাড়ির সঙ্গে ছোটখাটো সোনার গহনা মানানসই। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন স্টোন, কুন্দুন বসানো গহনা। টপস কুর্তির সঙ্গে ট্রেন্ডি মালা বা কানের লম্বা দুল যে কোনো পার্টিতে ভালোই মানিয়ে যায়। তবে যে কোনো পোশাকের সঙ্গেই হালকা বা ভারী একটু গহনাই মেয়েদের রূপটাই যেন বদলে দেয়। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় গহনার ডিজাইন ও নকশায় পরিবর্তন আসে। হালফ্যাশনে গহনায়ও এসেছে বৈচিত্র্য।

 

খোঁজখবর

সোনার গহনার দাম নির্ভর করে ভরি, ক্যারেট, নকশা ইত্যাদির ওপর। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, পূরবী জুয়েলার্স, নিউ জড়োয়া হাউস, আমিন জুয়েলার্স, ভেনাস, ডায়মন্ড জুয়েলার্স, আপন জুয়েলার্স, মৌচাক জুয়েলার্সসহ বিভিন্ন জুয়েলার্স ছাড়াও যমুনা ফিউচার পার্ক, পিংক সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, চাঁদনী চক, মৌচাক মার্কেটে বড় জুয়েলারি দোকান রয়েছে।


আপনার মন্তব্য