Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২৫

ফ্রিজি চুল!

ফ্রিজি হেয়ার বা অবিন্যস্ত চুল। এটি অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। ভাবছেন কীভাবে মোকাবিলা করবেন? সাধারণ কয়েকটা নিয়মই এনে দেবে আপনার অবিন্যস্ত চুলের স্থায়ী সমাধান। রইল বিস্তারিত...

ফ্রিজি চুল!
► মডেল : শান্তা জাহান ► ছবি : ফ্রাইডে

ফ্রিজি হেয়ার! এমন সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের। এলোমেলো আর অবিন্যস্ত চুলের কারণে বাঁধে চুলে জট। অনেক সময় চুল একেবারে ঘেঁটে গিয়ে এলোমেলো হওয়ার কারণে চুল ম্যানেজ করা বেশ মুশকিল। কীভাবে মোকাবিলা করবেন এই সমস্যার? সাধারণ কয়েকটা নিয়ম মেনে চলুন। এর আগে সমস্যা সমাধানে যেতে হবে এর অন্তরালে। হেয়ার ফ্রিজি হয় কেন? জানতে হবে এর গোড়ার কথা।

 

আজকাল চুল নিয়ে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাধারণত অনেক কারণেই হেয়ার ফ্রিজি হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তন্মধ্যে হেয়ার রিবন্ডিং এবং হেয়ার কালার অন্যতম। এসব কেমিক্যালি ট্রিটমেন্টের কারণে চুল হয়ে যায় রাফ। এ ছাড়াও হেয়ার পোরোসিস সম্পর্কে কম-বেশি সবাই জানেন। আমাদের হেয়ার পোরোসিস ওপেন থাকলে চুলের ভিতরের নিউট্রিশনগুলো প্রায় ওয়াশড আউট হয়ে যায়। ফলে চুলে হয় নি®প্রাণ। তখনই চুল ফ্রিজি হয়ে যায়। একটি চুলের সঙ্গে আরেকটি চুল আঠার মতো লেগে থাকার ফলে ব্রাশ করতে গেলে চুল ভেঙে পড়ে।  

 

এ ছাড়া ভুললে চলবে না, চুল এবং মাথার স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেয়ার অপরিষ্কার, নিয়মিত শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সিরাম ব্যবহার না করা এমনকি নিয়মিত হেয়ার ব্রাশ না করার ফলেও ফ্রিজি হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই খুব বেশি ধুলোবালিতে কাজ করার কারণে চুল ঘেমেনেয়ে আঠালো হয়ে যায়। তাদের হেয়ার ফ্রিজি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আবার যারা মেহেদি ব্যবহারে অভ্যস্ত বা দীর্ঘদিন চুলে মেহেদি ব্যবহার করেন। তাদেরও চুল ফ্রিজি হয়ে যায়।

 

ফ্রিজি হেয়ার কেয়ারে পারলারগুলো অনেক ধরনের ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকেন। তবে ট্রিটমেন্টের পুরোটাই নির্ভর করবে চুলের ধরন এবং ফ্রিজিনেসের ওপর। অর্থাৎ আপনার চুল কতটুকু ফ্রিজি তার ওপর ভিত্তি করে পারলারগুলো তাদের ক্লিনিক্যালি ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকে। আবার একেক জনের চুলের ধরন বুঝে একেক ধরনের ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-  নিয়মিত কসমোলজিস্টের পরামর্শ মতো নিয়ম মেনে চলা। ট্রিটমেন্ট চলাকালীন কসমোলজিস্টের পরামর্শে ভালো মানের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

 

মনে রাখবেন,  শুধু পারলারের ট্রিটমেন্ট নয়, বাড়িতেও সমানভাবে চুলের যতেœ সচেষ্ট থাকতে হবে। ফ্রিজি চুলে কোন তেল ব্যবহার করবেন এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কিছু নেই। আপনার হাতের কাছে থাকা নারকেল তেলই যথেষ্ট। চাইলে আমন্ড অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে নারিকেল তেল বা আমন্ড হালকা গরম করে নিন। এরপর সেই কুসুম গরম তেল হালকাভাবে মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। তারপর তোয়ালে কুসুম গরম পানি ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে পাঁচ মিনিট মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এতে সহজে চুলের গোড়ায় তেল ঢুকবে ও পুষ্টি জোগাবে। চুল নরম ও চকচকে হবে। চুল সহজে ম্যানেজ করতে পারবেন। সবশেষে শ্যাম্পু করে নিন।

 

স্ক্যাল্প পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল চাইলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো সহজেই পাওয়া যায়। সম্ভব হলে জোজোবা অয়েলও দিতে পারেন। স্ক্যাল্পে পুষ্টি ফিরিয়ে আনতে এর জুড়ি নেই। ফ্রিজি হেয়ারের শ্যাম্পুটাও একটু ভিন্ন থাকা উচিত। এক্ষেত্রে মাইল্ড হার্বাল শ্যাম্পু বেছে নিতে পারেন। চুলে শ্যাম্পু লাগানোর পর ধীরে ধীরে চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু লাগান। শ্যাম্পু করার পর ভালোভাবে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন। তারপর হালকা হাতে চুলে কন্ডিশনার ম্যাসাজ করুন।

 

ফ্রিজি হেয়ারের জট ছাড়াতে সবসময় বড় দাঁড়ার চিরুনি ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে কাঠের চিরুনি হলে ভালো। তবে ভেজা চুল কখনই আঁচড়াবেন না, এতে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। চুল আধশুকনো হলে আঁচড়ান। আবার ফ্রিজি চুল কখনই একেবারে শুকনো অবস্থায় আঁচড়াবেন না। চুল শুকনো থাকলে ভেজা আঙ্গুল দিয়ে হালকা হাতে জট ছাড়িয়ে তারপর চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান।

লিখেছেন : শোভন সাহা (কসমোলজিস্ট)


আপনার মন্তব্য