Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৯

ঝেড়ে ফেলুন মানসিক চাপ

ঝেড়ে ফেলুন মানসিক চাপ

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হৃদরোগ। কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই যে কোনো সময় এটি কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন। বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে সংক্রামক ব্যাধির পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৫৩ ভাগ মৃত্যুর কারণ হলো এসব অসংক্রামক ব্যাধি, যার অন্যতম হচ্ছে করোনারি হৃদরোগ এবং এটি শতকরা প্রায় ২৭ ভাগ মৃত্যুর কারণ। প্রতি বছর লাখ লাখ লোকের হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। এদের মধ্যে ২৫ ভাগের মৃত্যু হয় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই। হার্ট অ্যাটাক হয়েও অনেক সময় বেঁচে থাকতে হয় নানা অক্ষমতা আর হঠাত্ মৃত্যুর ভয় নিয়ে। বাংলাদেশে শতকরা ১০ জন করোনারি হৃদরোগে ভুগছেন। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্যের প্রয়োজন পড়ে তেমনি রোগাক্রান্ত হলে প্রয়োজন চিকিৎসার। তাই হৃদরোগের চিকিৎসা হিসেবে প্রচলিত বহুল আলোচিত দুটি পদ্ধতি- বাইপাস ও স্ট্যান্টিং। এ দুটিই অপারেশন। অনেক সময় ডাক্তাররা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দেন যে রোগীর বাইপাস সার্জারি বা স্ট্যান্টিং করার মতো অবস্থা নেই বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্জন অপারেশন করলেন না। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি পজিটিভ থাকলে সার্জনরা অপারেশন করতে অনিচ্ছুক। অনেক রোগী অপারেশনের কথা শুনলে ভয় পায়। তাদের প্রচলিত পদ্ধতির চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে  না, এরকম পরিস্থিতিতে কি রোগীরা নিজেকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন? নিশ্চয় নয়। তারাও চায় জীবনকে উপভোগ করতে, একটু সুস্থ থাকতে। তাই বর্তমানে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সবার আগে প্রয়োজন মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের অন্যতম কারণ এই মানসিক চাপ। এমনকি এ থেকে রক্ত চাপ বেড়ে গিয়ে নানা ঝামেলা সৃষ্টি করে। তাই ঝেড়ে ফেলতে হবে বিভিন্ন মানসিক চাপ। এ কথাগুলো এখন কারও মেনে নিতে আপত্তি থাকার কথা নয়। হলিস্টিক পদ্ধতিতে (ডায়েট ম্যানেজমেন্ট, স্ট্রেস ফ্রি টেকনিক, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম)  যে চিকিৎসা হচ্ছে তা উন্নত বিশ্বেও গ্রহণযোগ্য।  শুধু হৃদরোগ চিকিৎসাতেই নয়, অসংক্রামক বহু রোগ বিশেষত উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও মাইগ্রেনের চিকিৎসায় এ বিকল্প পদ্ধতির সাফল্য আজ পরীক্ষিত। অন্যদিকে মেডিটেশনের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। কারণ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিযে নানারকম চাপে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আর এসব কারণ ত্বরান্বিত করছে বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের প্রবেশকে। তাই সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত হলো ঝেড়ে ফেলতে হবে এসব মানসিক চাপ। তাহলে জীবন হয়ে উঠবে আরও সুন্দর ও সুস্থ। এছাড়া রোগ-বালাইয়ের উপসর্গ দেখা মাত্র অবহেলা না করে প্রাথমিক

অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হবে। অন্যথায় একটা

পর্যায়ে তাতে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস, সিইও, দি অ্যালার্জি এন্ড

অ্যাজমা সেন্টার, স্কাইচাট রাজকোষ, পান্থপথ, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য