শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০৭

দাঁত তুলে ফেলাই সমাধান নয়

দাঁত তুলে ফেলাই সমাধান নয়
তাই দাঁত নড়ে গেলে বা দাঁত অতিরিক্ত ক্ষয় বা গর্ত হলেও না তুলে ওই দাঁতের সংরক্ষণ করা সম্ভব। তাই একটি দাঁত তুলে ফেলবার আগে সঠিক চিকিৎসা করা প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শরীরের যে কোনো অঙ্গের মতো দাঁতের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। দাঁত তুলে ফেললে শুধু যে সৌন্দর্য ব্যাহত হয় তা নয়, পাকস্থলীর সমস্যাও দেখা দেয়, এবং কথা বলতে শব্দ উচ্চারণও সমস্যা হয়। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দাঁতে কোনো ইনফেকশন হলে চোখের অপারেশন করা যায় না। আগে দাঁতের ইনফেকশন কমিয়ে তবেই চোখের সার্জারি করা যায়। বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় ইনফেকশন কমিয়ে দাঁতের সংরক্ষণ করা সম্ভব। এ ছাড়াও দেখা গেছে দাঁতে ইনফেকশন হলে অনেক সময় মাথা, চোখে, কানে রেফারড পেন হয়।’ গবেষণায় দেখে গেছে হার্টের সমস্যা (যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপটাল ডিফেক্ট, অ্যাটরিয়াল সেপটাল ডিফেক্ট ইত্যাদি) থাকলে দাঁত সার্জারির সময় হার্টের সমস্যা হতে পারে। কারণ ডেন্টাল সার্জারিতে ব্যাকটিরিয়া রক্তে প্রবেশ করে, ফলে তা  হার্টের ক্ষতি করে। সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক কভারেজে দাঁতের চিকিৎসা এবং সেই সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত টেকনোলজি অর্থাৎ জীবাণুমুক্ত পরিবেশের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে সাধারণত মানুষের ধারণা দাঁত ব্যথা হলে তার একমাত্র চিকিৎসা দাঁত তুলে ফেলা। কিন্তু একটি রোগাক্রান্ত দাঁতকে দীর্ঘদিন সুস্থ, সবল রাখতে সব ধরনের চিকিৎসা এখন হচ্ছে। যেমন রুট ক্যানেল ক্রাউন ক্যাপ চিকিৎসা ইত্যাদি। আমাদের শরীরে কোনো অঙ্গ-প্রতঙ্গের কোনো সমস্যা হলে যেমন আমরা তার যথাযথ চিকিৎসা করি, তেমনই দাঁত ব্যথা হলে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগে দাঁত তুলে ফেলাটা সমাধান নয়। গবেষণায় দেখা যায় দাঁত তুলে ফেললে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। দাঁত ব্যথা হলে তা তুলে ফেলার খরচ সামান্য হলেও এর ফলে হৃদযন্ত্রে বা অন্য অঙ্গ প্রতঙ্গে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুন বেশি। এজন্য আমাদের আগে থেকে সতর্ক হওয়াই প্রয়োজন। বর্তমানে দাঁতের সংরক্ষণ নিয়েই গবেষণা হচ্ছে। এখন সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশের সাহায্যে জীবাণুমুক্তকরণ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে এখন রুট ক্যানেল চিকিৎসায় একটি অসুস্থ দাঁতকে বেদনাহীন ও কার্যকর করা যায়। এ পদ্ধতিটিতে সাধারণত ২/৩ দিন বা তার বেশি সময় লাগে। পরবর্তীকালে ওই দাঁতকে মজবুত করার জন্য তার উপর একটি মুকুটের ন্যায় বস্তু বসিয়ে দেওয়া হয়, যার সাহায্যে স্বাভাবিক জিনিসও খাওয়া যায়। তবে এই মুকুটের মতো বস্তুটি তৈরির খরচ সম্পূর্ণ আলাদা। দাঁত ভেঙে গেলেও এ চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে। এই মুকুটের নাম ক্রাউন, সেটি পরসেলিন, মেটাল বা স্বর্ণেরও হতে পারে। সাধারণত দাঁত ক্যারিজ রোগ বেশি গভীরে গেলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর ক্রাউন পরানো হয়। সাধারণত পেরিওডেন্টাইটিস রোগ দীর্ঘস্থায়ী হলে দাঁতের পার্শ্ববর্তী চোয়ালের হাড়ের ক্ষয় হয় এবং সে ক্ষেত্রেই দাঁত নড়ে যায়। এ রোগে মুখে দুর্গন্ধ হয়, মাড়ি থেকে পুঁজ ও রক্ত বের হয়। আলট্রাসোনিক স্কেলিং এর সাহায্যে  দাঁতের ময়লা বা ডেন্টাল প্লাক পরিস্কার করে। মুখের ইনফেকশন কমিয়ে মাড়ির চিকিৎসা  করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে একটি OPG এসব করে বুঝতে হয় কি ধরনের হাড় ক্ষয় হযেছে। মাড়ির বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে নড়ে যাওয়া দাঁতকে আবার সঠিকভাবে রাখা যায়। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে দাঁত ফেলাটাই সমাধান নয়।

এসব বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী

মুকুল ডেন্টাল ক্লিনিক, গ্রিন রোড, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য