Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৭

ডেন্টাল ক্যাভিটি কি এবং কেন হয়

ডেন্টাল ক্যাভিটি কি এবং কেন হয়

আমাদের দেশে ৯০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে মুখের রোগের সমস্যার শিকার। এর মধ্যে ৬৫% থেকে ৮৫% স্কুল ছাত্রছাত্রী যে কোনো একটি দাঁতে ক্যাভিটিতে আক্রান্ত। ৭০% বয়স্ক মানুষে যে কোনো একটি দাঁতে ক্যাভিটির রোগে আক্রান্ত। ডেন্টাল ক্যাভিটি শব্দটির প্রকৃত অর্থটা কি? এটার প্রকৃত অর্থ দাঁত সম্পর্কিত। আমাদের জিহ্বা, মাড়ি, ঠোঁট, স্নায়ু সংযোগ এবং লালা গ্রন্থি মিলে ডেন্টাল শব্দটির প্রয়োগ হয়। আর ডেন্টাল ক্যাভিটি বলতে আমরা দাঁতে গর্ত হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। দাঁতে গর্ত হওয়া সমস্যাটি অন্যতম প্রচলিত দন্ত রোগের মধ্যে একটি। এ রোগের কারণে দাঁতের দৃশ্যমান অংশে কিংবা গভীরে গর্তের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে এ রোগের কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। গর্ত বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে ব্যথা, শিরশির অনুভূতি, কিছু কামড়ানোর সময় ব্যথা অনুভাব, ঠান্ডা-গরম এবং মিষ্টি জাতীয় কিছু খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে চিনচিন ব্যথা অনুভূতি হয় এবং ক্রমে কালো, হলদেটে বা সাদা অংশ ক্ষয়ের মাধ্যমে গর্ত বড়ভাবে দৃশ্যমান হতে থাকে। যেহেতু প্রাথমিকভাবে এ রোগের কোনো প্রভাব বোঝা যায় না কাজেই শুরু থেকেই দক্ষ দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকা উচিত। মূলত দাঁতের ক্ষয় থেকে দাঁতের গর্তের দৃষ্টি। দাঁতের ক্ষয় মূলত কিছু ধাপে ধাপে হয়। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করার কারণে দাঁতের সামনের অংশে আঠালো হলদে প্রলেপ দেখা যায়, ফলে দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে আমরা প্লাগ বলি। ক্রমে তা বড় হয়ে মাড়িতে ক্যালকুলাস সৃষ্টি করে যা ব্যাকটেরিয়াকে স্থায়ীভাবে সহায়তা করে। প্লাগ থেকে সৃষ্ট এসিড দাঁতের মিনারেল উপাদানকে নষ্ট করে দেওয়ার মাধ্যমে দাঁতের প্রথম স্তর এনামেলকে দুর্বল করে দেয়। ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্তের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাকে আমরা দাঁতের গর্ত সৃষ্টি হওয়ার প্রাথমিক ধাপ বলি। এনামেল অংশ নষ্টের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া দাঁতের গঠনে দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করে যাকে আমরা ডেন্টিন বলি। দ্বিতীয় স্তরটি প্রথমটি থেকে অপেক্ষাকৃতভাবে নরম এবং এসিড সহ্য ক্ষমতা কম। ডেন্টিন স্তরে অবস্থিত কিছু ক্ষুদ্র নালির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া দাঁতের স্নায়ুতে সংযোগ স্থাপন করে। ফলে দাঁতের শিরশির অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তৃতীয় পর্যায়ে ব্যাকটেরিয়া দাঁতের গঠনের তৃতীয় স্তর পাল্পে প্রবেশ করে যা দাঁতের স্নায়ু এবং রক্ত পরিবাহী ধমনী দ্বারা গঠিত। এর ফলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে পাল্প ফুলে যায়। ফলে ধমনী এবং শিরা চাপের সম্মুখীন হয় সংকুচিত জায়গার কারণে। ফলশ্রুতিতে দাঁতে দেখা দেয় প্রচ- ব্যথা। এ ব্যথা শেষ পর্যন্ত দাঁতের গোড়া থেকে দাঁতের অস্থিতে পৌঁছায়। পরবর্তীতে যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমাদের দেশে শিশুদের দুধ দাঁতের ক্ষেত্রে দাঁতের এই রোগটিকে অবহেলা করা হয়। কারণ অনেক বাবা-মা প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী দুধ দাঁত অস্থায়ী এটা ভেবে থাকেন। কিন্তু এই গর্ত থেকেই হতে পারে দাঁতে ব্যথা, দাঁতে পুঁজের সংক্রমণ, মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত ভেঙে যাওয়া, দাঁত ক্ষয়ে দাঁত পরে যাওয়া এবং সেই সঙ্গে স্থায়ী দাঁত উঠতে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার মতো রোগগুলোর।

প্রতিরোধের উপায় : লক্ষ্য রাখতে হবে সচেতনতাই এই রোগ মুক্তির প্রধান উপায়। নিয়মিত দুবার দাঁত ব্রাশ করা। ফ্লুরাইড যুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা।  দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্লুরাইডযুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা। তাজা ফল এবং শাকসবজি খেতে হবে যেটা লালা বৃদ্ধিতে সহায়ক। অতিরিক্ত  চিনিযুক্ত চা-কফি পান থেকে বিরত থাকা। তাই এসব বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।

লেখক : ডা. আদেলী এদিব খান

ডেন্টাল পিক্সেল, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য